ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত কোটি টাকা

Passenger Voice    |    ১১:০০ এএম, ২০২৬-০৭-২৮


ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত কোটি টাকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় চারটি খাল খনন শেষে দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন এক কোটি টাকার বেশি।

সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ শাওন।

দুই উপজেলার অফিস সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুরে ইউনিয়নের চারটি খাল পুনর্খনন শেষে সব খরচ মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৮০ হাজার ৫৩৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৫ টাকা। সেখান থেকে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯ শত ১৬ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

অপরদিকে, সদরপুর উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮০৪ টাকা বরাদ্দ ছিল। সেখান থেকে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা মোট ১৪ কিলোমিটার ও সদরপুর উপজেলায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়।

দুই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এই খাল খনন কর্মসূচি সকল সময় খোঁজখবর রাখছিলেন। কাজের গুণগত মান যাচাই করতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। খালগুলো পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক উভয়েই কাজের চমৎকার ফিনিশিং ও অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

ভাঙ্গা উপজেলায় গত ১৬ মার্চ দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। সেদিন এর উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘এই প্রকল্পে আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছিল, আমরা সরকারি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উঠানো হয়। এক্ষেত্রে আমার কঠোর নজরদারি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিসি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক স্যার এসেছিলেন আমাদের এই কাজ দেখতে। তিনিও কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন এ বিষয়ে।’

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ শাওন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প এই খাল খনন কর্মসূচি। সেই কর্মসূচি প্রথম যে ১৮টি খাল প্রধানমন্ত্রী একযোগে সারাদেশে উদ্বোধন করেন তার ভিতরে আমার উপজেলার দুটি খাল ছিল। এই খাল খনন কর্মসূচিতে কোনরকম নয়-ছয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেকে অনেক কথা বললেও আমরা কাজটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করেছি। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে, কারণ সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।’