শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৮ এএম, ২০২৬-০৭-২৮
সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার প্রবল স্রোতে সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পাশের জমির সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। এতে গত দুই সপ্তাহ ধরে এসব সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া পৌরসভার উত্তর রামপুর থেকে গোলারঘাট, দেওদীঘি বাংলা ক্লাব এলাকা থেকে মির্জাখিল, এওচিয়া ইউপি থেকে আমিলাইশ হিলিমিলি, খোদারহাট থেকে মৌলভী দোকান, দস্তিদারহাট থেকে ছদাহা ফকিরহাট ও কেরানীহাট গরুর বাজার থেকে কার্তিকের দোকান সড়কের একাধিক অংশ বন্যার প্রবল স্রোতে কৃষিজমির সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কেরানীহাট গরুর বাজার থেকে কার্তিকের দোকান সড়কের কিছু অংশের পাশ দিয়ে হাঙর খাল প্রবাহিত হয়েছে। এ খালের প্রবল স্রোতে কার্তিকের দোকানসংলগ্ন সড়কের বিশাল একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে, সাতকানিয়া পৌরসভার উত্তর রামপুর থেকে গোলারঘাট সড়কের বায়তুশ শরফ অংশে ডলু খালের প্রবল স্রোতে একটি বাড়িসহ সড়কের বিশাল অংশ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানকার বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকোর সাহায্যে চলাচল করছেন। এ ছাড়া দস্তিদারহাট থেকে ছদাহা ফকিরহাট সড়কের অন্তত তিনটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। তাই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা বাসিন্দারা বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা গেছে, বন্যার সময় ডলু নদীর পানি যখন প্রবল স্রোতে উত্তর রামপুর গ্রামের বায়তুশ শরফসংলগ্ন সড়কের ওপর দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে তখন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাটির বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির স্রোত বেড়ে ওই সড়কের বিশাল একটি অংশ বিলীন হয়ে যায়। জসীম উদ্দীন বলেন, ‘বন্যাপরবর্তী দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কোনো কাজ শুরু হয়নি। প্রতিদিন হাজারও মানুষ কষ্ট করে বাঁশের সাঁকোর সাহায্যে চলাচল করছেন। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
ঢেমশা ইউনিয়নের প্রবাসী মোজাফফর হোসাইন বলেন, কেরানীহাট গরুর বাজার থেকে কার্তিকের দোকান সড়কের অন্তত তিনটি অংশ বন্যার প্রবল স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। ইতোমধ্যে বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যদি এক মাসের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয় তাহলে আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে এটি সংস্কার করে দেব।
ছদাহা ইউনিয়নের ফকিরহাট গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাঙর খালের প্রবল স্রোতে আমাদের চলাচলের একমাত্র সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ কৃষিজমির সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা একটি অংশে বাঁশের সাঁকো এবং অপর একটি অংশে ভাঙা ইট দিয়ে হেঁটে চলাচলের উপযোগী করেছেন। তবে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প পথ দীর্ঘ হওয়ায় সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’
সাতকানিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে দ্রুত বরাদ্দ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত