উত্তরায় ফিলিং স্টেশনে চালকদের ভিড়,দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি

Passenger Voice    |    ০৩:৫৮ পিএম, ২০২৬-০৭-২৬


উত্তরায় ফিলিং স্টেশনে চালকদের ভিড়,দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি

রাজধানীর উত্তরার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ট্রাক ও প্রাইভেটকারচালিত যানবাহনের চালকরা।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, র‌্যাব-১-এর পাশের মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, বিমানবন্দর, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন গ্যাস পাম্প ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। একটি-দুটি ফিলিং স্টেশন চালু থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাসের প্রেশার না থাকায় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে সিএনজি, ট্রাক ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশে খন্দকার ফিলিং স্টেশন এবং বিমানবন্দর-খিলক্ষেত এলাকার বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন চালকরা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন না। তবে ডিজেল ও অকটেনচালিত যানবাহন প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে চলে যাচ্ছে।

দৈনিক যুগান্তরকে মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বলেন, পরিবহণের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় এবং গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকায় জসীমউদ্দীন মোড় পর্যন্ত সিএনজির দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, আমাদের কাছেই যদি গ্যাস না থাকে, তাহলে গ্রাহকদের কীভাবে দেব? আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকের যানবাহন গ্যাসচালিত। গত দুই দিন ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না।গ্যাস না পেয়ে সবাই ফিরে যাচ্ছেন। 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার পশ্চিম পাশে অবস্থিত আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পে গ্যাস না থাকায় বিক্রয়কর্মী আক্তারুজ্জামান মোবাইলে ভিডিও দেখে সময় পার করছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ-ছয় দিন ধরে এ সমস্যা চলছে। দুপুর আড়াইটার পর কিছুক্ষণ গ্যাসের চাপ ছিল, পরে আবার চলে গেছে। সকাল ৯টার পর থেকে বসেই আছি।

পাশের তাসিন ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের জন্য সিএনজি ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। 

সিএনজিচালক জসিম যুগান্তরকে বলেন, আমি ভোর ৪টায় গ্যাসের জন্য এসেছি, কিন্তু এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়ির মালিককে জমা কোথা থেকে দেব? সংসার কীভাবে চলবে? সামনে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে হবে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

আরেক সিএনজিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন মহাজনকে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাস লাগে প্রায় ৪০০ টাকার। এর বাইরে সারাদিনে আমার আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ আছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। গ্যাস না পাওয়ায় গত তিন দিন ধরে ঠিকমতো আয় করতে পারছি না।

ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. শাকিব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিন দিন ধরে গ্যাসের প্রেশার নেই। আশপাশের প্রায় সব ফিলিং স্টেশনই বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালালেও গ্যাসের চাপ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।