এলএনজি সংকট,সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি

Passenger Voice    |    ১২:৩২ পিএম, ২০২৬-০৭-২৪


এলএনজি সংকট,সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি

এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে সংকট তীব্র হয়েছে। নতুন করে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে আবাসিক ও পরিবহন খাতে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। দেশের অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তৈরি হচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। গত মঙ্গলবারের আগে ১৫০ কোটি ঘনফুটের মতো পাওয়া গেলেও টার্মিনাল দুর্ঘটনায় বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে। এ কারণে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক– সব খাতেই সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনভর গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। মগবাজারের বাসিন্দা নাসরিন জাহান বলেন, ‘এমনিতেই দিনের বেলা গ্যাসের চাপ কম থাকে। তাই রাতে বেশির ভাগ রান্না করা হয়। তবে বুধবার থেকে দিনের বেলায় একদমই চুলা জ্বলছে না। সকালে নাশতা তৈরি করতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করার পর চুলা জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।’ কাজীপাড়ার বাসিন্দা মনজুরুল সরকার বলেন, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক ওভেনে খাবার গরম করে খেতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটে পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অচলাবস্থা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ এতই কম যে গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। স্টেশনগুলোর সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

হাজীপাড়া এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দিনের বেলায় প্রায় শূন্যে নেমে আসে। গ্যাসের চাপ ৫ পিএসআইর নিচে নেমে গেলে কার্যত গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না। এখন অধিকাংশ সময়ই সেই অবস্থা থাকে।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ ১ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবহন খাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকা জেলা সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনের বড় একটি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে। গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালক দৈনিক জমার টাকাও তুলতে পারছেন না। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বাইরেও একই রকম চিত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক সময়ের ১২ থেকে ১৫ পিএসআইয়ের পরিবর্তে অনেক সিএনজি স্টেশনে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। পাম্পে ভোর থেকেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, এলএনজি সরবরাহ সংকট ও পাইপলাইনের কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৮টিতেই গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত সরবরাহ থাকায় সেখানে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

টার্মিনালে ত্রুটির কারণ শনাক্ত হয়নি

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা ত্রুটির কারণ শনাক্ত করতে না পারায় টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনছে। তাদের পরিদর্শনের পর নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে, মেরামতে কত সময় লাগবে এবং কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।