শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৫২ পিএম, ২০২৬-০৭-২২
যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর সীমান্তবর্তী সাখারিয়া এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের উদ্যোগে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার কয়েকটি গ্রাম, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়ক নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রবল স্রোতের কারণে সাখারিয়া এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার ভাঙন আরও তীব্র হলে বাঁধের একটি অংশে বড় ধরনের ধস নামে। এতে বাঁধের নিচের মাটি সরে গিয়ে আঞ্চলিক সড়কের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়ে।
স্থানীয়রা ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে ভূঞাপুর, গোপালপুর ও জামালপুরের তারাকান্দি অঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে সাখারিয়া এলাকায় যমুনার ভাঙন চললেও শুরুতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙনের খবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন ভাঙন আরও তীব্র হলে নদী রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি পুরো সড়কটি নদীতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জনজীবনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে নিতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি বসতবাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদী যদি একই গতিতে ভাঙতে থাকে, তাহলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করেছে। ভাঙনপ্রবণ স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে নদীর স্রোতের আঘাত কমানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, ভাঙনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাময়িকভাবে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি কাজ শেষ করে পরিস্থিতি নিরাপদ হলে আবারও যান চলাচল চালু করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, বাকিটা আল্লাহর ওপর। ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক (ডিসি), সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, টাকার কোনো অভাব নেই। আপনারা যেভাবে পারেন, লোকালভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আউয়াল বলেন, নদীর তলদেশে ইকো সার্ভে করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, নদীর তলদেশের বেশ কিছু অংশ ক্ষয় হয়েছে। এ কারণে নদীর বাম তীরে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্ত বাঁধে আঘাত করায় বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। যত ব্যাগ প্রয়োজন হবে, ততই ডাম্পিং করা হবে। সিরাজগঞ্জ থেকে জিও ব্যাগে বালু ভরে ট্রলারের মাধ্যমে আনা হচ্ছে।
নদীপাড়ের মানুষের দাবি, যমুনার ভাঙন তাদের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বর্ষাতেই ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়। তাই দ্রুত স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নদী রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়ক দ্রুত নিরাপদ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কই নয়, আশপাশের জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং অসংখ্য মানুষের বসতভিটাও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত