শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:০০ পিএম, ২০২৬-০৭-২২
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শঙ্খ নদের পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন ও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ক্ষত। বিশেষ করে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের পশ্চিমপাড়া রাস্তার মাথা থেকে ফকিরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত নদের তীরের ব্লক ধসে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা বাঁধের বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিন ইছাখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খ নদের পানি কমে যাওয়ার পর ভেজা মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। শঙ্খের পাড়জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল ফাটল। ফসলি জমির বড় বড় মাটির খণ্ড নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বাঁশঝাড়, গাছপালা ও খেত খামার যে কোন মুহূর্তে শঙ্খ নদে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে ইছাখালী গ্রামের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদের পানিতে তলিয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, শঙ্খ নদের তীরবর্তী উপজেলা আনোয়ারা ভাটির দিকে হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ইছাখালী গ্রামে ১৮০ মিটার এলাকায় ব্লক ধসে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি পুরোপুরি কমে গেলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়বে। মূলত শঙ্খ নদ থেকে বালু তোলার কারণেই বাঁধের ব্লক ধসে পড়ে ভাঙন শুরু হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শঙ্খ নদের পানি বাড়লে যেমন বন্যার আতঙ্ক থাকে, তেমনি পানি কমে গেলেই শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। বাঁধের এই বড় বড় ফাটল দ্রুত সংস্কার করা না হলে সামান্য বৃষ্টিপাত কিংবা শঙ্খের পানির চাপ বৃদ্ধি পেলেই পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শঙ্খ নদ থেকে বালু তোলার কারণে নদের ভাঙন থামছে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কড়া নজরদারি না থাকায় এ অবস্থা চলছে। শঙ্খ নদের ভাঙন রোধে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
ইছাখালী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান তানভীর বলেন, দক্ষিণ ইছাখালী এলাকায় শঙ্খের ভাঙন আবার শুরু হয়েছে। কয়েক বছর আগে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়েছিল। এরপর থেকেই ইছাখালীর মানুষ অনেকটাই চিন্তামুক্ত ছিল। তবে কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ীর অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেয়ার আলী (৭০) জানান, গত কয়েকদিন ধরে শঙ্খের স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লকগুলো সরে গিয়ে শঙ্খের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে বেড়িবাঁধ আর ঘরবাড়ি কিছুই থাকবে না।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আনোয়ারা উপবিভাগের কার্যসহকারী রিপন দাশ সরেজমিন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন, মূলত চাঁনখালী থেকে বারখাইন এরিয়া পর্যন্ত এখানে পরিস্কার বালু পাওয়া যায়। যার কারণে বিভিন্ন সময় ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু তোলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। সেখানে বালু উত্তোলনের কারণেই ব্লক ধসে বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আপাতত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানো হবে। বাঁধের ধসে পড়া ব্লক নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, পাউবোর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিচ্ছেন। বালু উত্তোলনের ব্যাপারে অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত