শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:০৩ পিএম, ২০২৬-০৭-১৮
রাজশাহীতে বন্যা ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে বাজারে দেখা দিয়েছে সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম, যা এক সপ্তাহে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাছ, চাল ও গরুর মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর সাহেববাজার ও আশপাশের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা। শসা কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১১০-১২০, টমেটো ২০০, গাজর ২০০-২১০, করলা ৮০, পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি, কাঁকরোল ও কচুর লতি ৪৫-৫০ টাকা, আলু ২৫-৩০, পেঁয়াজ ৪০, কাঁচা পেঁপে ২৫-৩০, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০, মিষ্টি কুমড়া ৩০ এবং চাল কুমড়া ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুনের দাম ৩০-৪০ টাকা, শসার দাম প্রায় ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ও করলার দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এ প্রভাব পড়েছে।
ডিম ও মুরগির বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫৫, হাঁসের ডিম ৬০, ফার্মের লাল ডিম ৩৮-৪০ এবং সাদা ডিম ৩৬-৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০, সোনালি ২২০-২৩০ এবং দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। রুই ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতল ৩০০-৪০০, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, পাঙাশ ১৮০-২২০, চাষের কৈ ২০০-২৫০, চাষের শিং ৩৫০-৪৫০, টেংরা ৫৫০-৭০০, বোয়াল ৬০০-৭০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০, কোরাল ৭৫০, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা নগরীর আলুপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ সামলাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
রাজশাহীর মাস্টারপাড়ায় বাজার করতে এসে হায়দার বলেন, ‘সবজির বাজার কিছুটা চড়া। গত সপ্তাহে বেগুন কিনেছি ৭০ টাকা কেজি কিন্তু আজকে ১০০ টাকা চাচ্ছে। এছাড়াও মরিচের দামটাও বেড়েছে। মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে।’
রাজশাহী সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা সুমন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে মোকামে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।’
সবজি বিক্রেতা রকি বলেন, ‘সারাদেশে বন্যা হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর সবজির বাজারে। এছাড়াও সবজির সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের ন্যায়, দু-একটা সবজি ছাড়া সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সামনে সবজির দাম আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত