শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫১ পিএম, ২০২৬-০৭-১৭
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য সরকার বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের বিমান কিনবে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বোয়িংও প্রয়োজন, এয়ারবাসও প্রয়োজন। আমরা দুটিই কিনব।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার পরিকল্পনা ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার আগ্রহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না কিংবা বোয়িং কেনা কোনো বাহ্যিক চাপের ফল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের ধারণা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, সরকার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একদিকে আমাদের সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে হবে। আমাদের বোয়িংও প্রয়োজন, এয়ারবাসও প্রয়োজন। আমরা দুটিই কিনব।’
বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয় না। একেবারেই না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
এর আগে সরকার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তুলতে এয়ারবাস বিমান কেনার আগ্রহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অংশ নেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনিয়া টারস্টাইন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিন।
বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখে একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং সম্ভাব্য এয়ারবাস ক্রয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত