মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদলাতে হবে

Passenger Voice    |    ১০:৫১ এএম, ২০২৬-০৭-১৬


মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদলাতে হবে

ঢাকা মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড বদল করার পাশাপাশি পিলার ও উড়ালপথের বিমে দেখা দেওয়া ফাটল মেরামত, স্টেশন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে পানি থেকে সুরক্ষিত রাখা, রেললাইন পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্র সংগ্রহ করতে বলেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদল করতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টে দাখিল করা এ প্রতিবেদন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি জানানোর আদেশ দিয়েছেন।

গত বছর ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়।

এর এক বছর আগেও একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর স্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পের কাঠামোগত (সব লাইন ও পিলার) সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষা বিষয়ে বিস্তৃত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পৃথক তিন রিটে রুলসহ এ আদেশ দেন।

রিটকারী পক্ষের একজন আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত সপ্তাহে দাখিল করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে তিন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। একটি শর্ট টার্ম, যা ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি করণীয় এবং পদ্ধতিগত করণীয় বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

হাইকোর্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে করা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানানোর আদেশ দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পিলারে ত্রুটি ধরা পড়েছে সেখানে নিয়মিত ফাটল ও দেবে যাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সব ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া পিলার ও উড়ালপথের বিমে যেসব ফাটল রয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত মেরামত করতে হবে। 

বর্ষা মৌসুমের আগে সব স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যাতে পানি ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ হয়ে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে হবে এবং রেললাইন নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। যেসব ট্রেনের চাকায় ফাটল বা গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যাবে, সেগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করতে হবে। ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়।

এদিকে বুধবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর সংঘটিত দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেফটি অডিট কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি তদন্ত ও পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করে। উচ্চ আদালত ডিএমটিসিএলকে ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৮টি স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি ও ১০টি দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এছাড়াও উচ্চ আদালত ডিএমটিসিএলের চলমান ও ভবিষ্যৎ এমআরটি প্রকল্পগুলোতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই কমিটির ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিএমটিসিএল ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এ উদ্দেশ্যে একটি ৯ সদস্যবিশিষ্ট বাস্তবায়ন ও তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি আদালতের নির্দেশের আলোকে গৃহীত সব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করবে। ওই কমিটি সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এবং ডিএমটিসিএলের প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে এই বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থাপন করবে।

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড কী?
মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড হলো রাবার ও ইস্পাতের মিশ্রণে তৈরি আয়তাকার একটি অংশ, অনেকটা মোটা মেট্রেসের মতো। এই প্যাড বসানো হয় মেট্রোরেলের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ও স্তম্ভের (পিলার) মাঝখানে।

মেট্রোরেলের উড়ালপথ বা ভায়াডাক্ট কংক্রিটের তৈরি, যা ৩০ থেকে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একাধিক স্প্যান জোড়া দিয়ে গঠিত। এই ভায়াডাক্ট বসানো হয় নিচের পিলারের ওপর। যেহেতু দুটোই কংক্রিটের তৈরি, তাই সরাসরি সংযোগ হলে ঘর্ষণ, ক্ষয় বা স্থানচ্যুতি ঘটতে পারে। এই সমস্যার সমাধানেই মাঝখানে ব্যবহার করা হয় বিয়ারিং প্যাড। এটি ঘর্ষণ কমায়, কম্পন শোষণ করে এবং পুরো কাঠামোর স্থায়িত্ব বজায় রাখে।