শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:১২ পিএম, ২০২৬-০৭-১৪
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি।
তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল।
মন্ত্রী জবাবে বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত