শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫২ এএম, ২০২৬-০৭-১৪
সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময়ে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ১৩৪ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে বিদায়ী অর্থবছরে। ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানিতে বাধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার।
ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯৫০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংগ্রহ হয় ৯৭৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি।
বিদায়ী অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা গেছে বলে জানান বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানিতে বৈষম্য রয়েছে। এখানে অনুমোদন থাকার পরও অনেক পণ্য আমদানি করতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। অথচ পার্শ্ববর্তী বন্দরে সব ধরনের পণ্য আনা যায়। এতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না, সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন করতে পারছে না।’
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান জানান, বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পেছনে অন্যতম কারণ ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের অধিকাংশ কৃষিপণ্য আমদানি করে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ী, এর মূল কারণ দরপতন। ভারতের মোকামের মূল্য বা দরের তুলনায় বাংলাদেশে কম দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসান এড়াতে আমদানি বন্ধ করছেন।’ তবে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভারী ক্রেন, ইয়ার্ড ও ওয়্যারহাউজসহ অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করা গেলে সরকারের রাজস্ব আহরণ আরো কয়েক গুণ বাড়বে বলে জানান সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি।
ভোমরা কাস্টম হাউজের দায়িত্বরত কমিশনার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছিল ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য। আর বিদায়ী অর্থবছর হয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টন, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন কম। কম পণ্য আমদানি করেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩৪ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো বন্দরে রাজস্ব আহরণ মূলত পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর নির্ভর করে। এখানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছেন। ব্যবসায়ীরা যেন হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা হয়। একই সঙ্গে সঠিক রাজস্বও যাতে পাওয়া যায় সেদিকেও নজরদারি করা হয়।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত