শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০৭ পিএম, ২০২৬-০৭-১৩
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম। জেলার কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে আকস্মিক এই বন্যায়। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও ত্রাণ বিতরণের জন্য ছুটে এসেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে তিনি আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার প্লাবিত এলাকায় গিয়ে পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা নিজ চোখে দেখেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তিনি আনোয়ার নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার ঘরে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলেন। পানিবন্দি আনোয়ার তুলে ধরেন উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ, ভঙ্গুর বেড়িবাঁধের চিত্র।
নাহিদ ইসলামের কাছে আক্ষেপ করে আনোয়ার বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর বন্যায় ভাসি। সরকার থেকে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হলেও তা ঠিকঠাক করা হয় না। কাজের মানে অনেক গরমিল থাকে, বেড়িবাঁধ তৈরির নিয়ম বা নকশা কিছুই সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না। আমরা কি চিরকাল এভাবে মরব? আপনি সংসদে গিয়ে আমাদের এই বাঁচার আকুতি তুলে ধরুন।’
আনোয়ারের ঘরে বসে তার সব কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন নাহিদ ইসলাম। স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমি জানি আপনারা কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। যারা বন্যায় পানিবন্দি অবস্থায় আছেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের নিয়ে পুরো দেশবাসী চিন্তিত। আপনাদের দুর্দশার খবর পুরো জাতি জানে।’
বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কেন কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে না এবং কোথায় ঘাটতি আছে, তা আমি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করব। আপনাদের জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।’
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকা রায়পুর, গহিরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দীর্ঘ দিন ধরে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে স্থায়ী সুরাহা মিলছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত