শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০৩ পিএম, ২০২৬-০৭-১৩
শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত ও ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হ্রাস করার অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছেন দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
রবিবার (১২ জুলাই) সকালে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ, ব্যয় হ্রাস, চার দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।
পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন যা দ্রুত পণ্য খালাসের সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
তবে দুঃখের বিষয়, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা দিলেও এখনও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, সদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে না। ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাঁধে কাস্টমস ও বন্দরের বিশাল জরিমানা গুনতে হয়। ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা হ্রাস পাচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা করা, কন্টেইনার স্ক্যানিং করার পরেও গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে ঢাকায় প্রেরণ, কন্টেইনার আনস্টাফিং এর সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য প্রেরণসহ আরও অনেক অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করার ফলে ক্ষেত্র বিশেষে ৭ থেকে ৮ দিন বা আরও বেশি সময় লাগছে।
উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, একই পণ্যের বিভিন্ন সংস্থার বার বার কায়িক পরীক্ষার ফলে যেকোন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও পণ্য আনস্টাফিং করায় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিছু ক্ষেত্রে এ সব পণ্য বাজারে চালানোর মতো অবস্থায় থাকে না। এতে করে আমদানিকারকরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি অনুসরন না করে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে।
এতে করে প্রকৃতপক্ষে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা। খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের মাশুল প্রদান, বিভিন্ন টেস্ট ও ডকুমেন্টের জন্য অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি করছে।
এতে করে আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ড এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে না।
তাই চিঠিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরন করে দেশেও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে আমদানীকৃত পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাস তথা ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধারা বজায় রাখার কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত