শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:২৯ পিএম, ২০২৬-০৭-১২
আষাঢ়ের শেষ সময়ে এসে গত গভীর রাত থেকে বৃষ্টি চলেছে। ভোরের দিকে ঝড়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। বিরতিহীনভাবে আকাশে মেঘের গর্জন চলছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-অলিগলিতে কোথাও কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমন সমান পানি জমেছে।
বিরতিহীনভাবে ঝরা বৃষ্টিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়াদাবাদ,আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, কালশী, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, গুলশান লেকপাড়, কাঁলাচাদপুর, বারিধারা এলাকার সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলগলিতে বেশ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ বের হওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শেষ আষাঢ়ের বৃষ্টিতে রাজধানী অলিগলিগুলোতে যেন লোকজনকে সাঁতার কাটতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে সর্বশেষ ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে এই পরিমাণ বৃষ্টি আগে হয়নি। আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৯৭ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ সারা দিন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টানা এই বৃষ্টিতে নগরীর অসংখ্য সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় পানি জমে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ পথচারীরা। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা যদিও খুবই কম, সঙ্গে গণপরিবহনও ছিল প্রায় অনুপস্থিত। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন, তাদের একজন আব্দুস সালাম। কারওয়ান বাজার থেকে জরুরি একটি কাজে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হওয়া আব্দুস সালাম জানান, ভোর থেকেই ঝুম বৃষ্টি চলছিল, রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন দুটোই ছিল খুব কম। কারওয়ান বাজার থেকে গুলশান আসার পথে একাধিক এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকতে দেখেছি, যা স্বাভাবিক যাতায়াতকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বিজয় সরণি, তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের দিকে আসা সিএনজিচালক আনোয়ার হোসেনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, আসার পথে একাধিক সড়ক ও অলিগলি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখেছি। আর জমে থাকা সেই পানিতে দু-একটি সিএনজির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের ঠেলে নিয়ে যেতেও দেখেছি। তবে সড়কে যানবাহনের চাপ, মানুষের ভিড় তেমন দেখা যায়নি। তবে যারা প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বেরিয়েছেন, তাদের প্রায় প্রত্যেককেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পথ চলতে হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানানো হয়, রাতব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের উভয় পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে নিরলসভাবে কাজ করছে ডিএনসিসি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত