শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২২ এএম, ২০২৬-০৭-১২
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে পণ্য ওঠানামা, খালাস এবং ডেলিভারি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও সংরক্ষণ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কনটেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের সড়ক যোগাযোগও বন্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য গ্রহণ ও সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। কিন্তু বন্যা শুরু হওয়ার পর গত ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যার কারণে বন্দরে ডেলিভারি সংখ্যা কমেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নেননি ব্যবসায়ীরা। বন্দরে ইয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মালামালের। তবে এর সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় বাড়বে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বহিনোর্ঙরে পণ্য ওঠানামা বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি প্রভাব বন্দরের ওপর পড়েছে। স্টেক হোল্ডাররা বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ডেলিভারি ও রপ্তানি কনটেইনার বন্দরে আনা-নেওয়া করতে না পারায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে যেসব কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়া যায়নি সেগুলো পরবর্তী সময়ে ডেলিভারি হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামে বন্যার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এ সময়ে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেননি। বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার আনা-নেওয়া যায়নি। ডিপোতে থাকা রপ্তানি কনটেইনারও জাহাজে তুলতে পারেনি। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্দরে পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিন্তু উপজেলায় বন্যা থাকায় পণ্যবাহী কনটেইনার আনা-নেওয়া করতে পারছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত