শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৭-১০
এক-এগারোর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঢাকা মহানগরে থাকা চারটি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর পার হতে চললেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু গত আওয়ামী লীগ সরকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণ শেষ করে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার মাসের মধ্যে সায়েদাবাদ টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশন নড়েচড়ে বসেছে।
এতদিনেও কেন চার বাস টার্মিনাল মহানগরী থেকে সরল না, সে ব্যাপারে বর্তমান দুই সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা দায় চাপাচ্ছেন পূর্বসূরিদের ওপর। তারা বলছেন, সম্প্রতি তারা সিটি করপোরেশনে এসেছেন। কেন বাস্তবায়ন হয়নি, সেটি আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা ভালো বলতে পারবেন
জানা গেছে, রাজধানীর যানজট এড়াতে ২০০৭ সালে নগরের ভেতরে থাকা গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন প্রস্তাব করা হয়, গাবতলী বাস টার্মিনাল যাবে আমিনবাজার বা সাভারের হেমায়েতপুরে। সায়েদাবাদ যাবে কাঁচপুর। গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া যাবে কেরানীগঞ্জ আর মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে টঙ্গী বা আশুলিয়া সড়কের পাশে সুবিধাজনক স্থানে। পরে বিভিন্ন মেয়রের আমলে দুই সিটি করপোরেশনের পদস্থ কর্মকর্তা ও সরকারের মন্ত্রীরা টার্মিনালের জায়গা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সময়ে শুধু সায়েদাবাদ টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য কাঁচপুরে একটি জায়গা চূড়ান্ত করা হয়। ওই সময় অধিগ্রহণও করা হয় সাড়ে ১২ একর জায়গা। টার্মিনাল তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতির মধ্যেই আসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। পরে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দ্রুত কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য জায়গাও খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কেরানীগঞ্জের বাঘৈর এলাকায় ৩৩ একর জায়গা পাওয়া গেছে। তবে সেটি অধিগ্রহণের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিএসসিসির মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া টার্মিনালকে আপাতত কেরানীগঞ্জে পাসপোর্ট অফিসের পাশে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। এটি হবে অস্থায়ী টার্মিনাল। জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে পরে সেখানে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) শওকত ওসমান কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে অন্য এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পূর্বাচলে খালি থাকা প্লটে একটি বাস ডিপো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাখালী টার্মিনালের সব বাস সেই ডিপোতে থাকবে। শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় হলে মহাখালীতে গিয়ে যাত্রী তুলেই রওনা দেবে। কোনো সময়ক্ষেপন করতে পারবে না। আর গাবতলী টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও বিরুলিয়া এলাকায় কয়েকটি জমি দেখা হলেও কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি।
মার্কেট বানিয়েও সরানো যায়নি কারওয়ান বাজার
রাজধানীর কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের জন্য মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে ৭ দশমিক ১৭ একর জায়গার ওপর ‘মহাখালী ডিএনসিসি’ নামে মার্কেট করে উত্তর সিটি করপোরেশন। এক দশক আগে মার্কেটটি তৈরি হলেও শত চেষ্টায় কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সেখানে স্থানান্তর করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত করোনা মহামারির সময় পুরো মার্কেটকে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে পরিণত করা হয়। এর পর থেকে সেখানে পুরোদমে হাসপাতালের কার্যক্রমই চলছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের চিন্তা থেকেও সম্পূর্ণ সরে এসেছে ডিএনসিসি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের উদ্যোগও ভুল ছিল। কিন্তু বর্তমানে কারওয়ান বাজার যেভাবে আছে, সেভাবে থাকাও ঠিক না। এখানে রিডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে এমন সুশৃঙ্খলভাবে করতে হবে; যেন বাজারটাও থাকে, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকে। কিন্তু বাজার সরিয়ে পাঁচতারকা হোটেল বানালে সেটি সাধারণ মানুষের কাজে আসবে না।
বাস টার্মিনাল স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার যানজটের পেছনে এসব টার্মিনালকে দায়ী না করে পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক অব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। টার্মিনাল মূল শহর থেকে দূরে নেওয়া হলে যাত্রীর যাতায়াত খরচ, নিরাপত্তাসহ সামগ্রিকভাবে জনভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে। স্বল্পবিত্ত ও প্রান্তিক, নারী-শিশু-বৃদ্ধ মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়বেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত