শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:১৩ পিএম, ২০২৬-০৭-০৯
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম ও ডলু নদীর পাড় ভাঙনের ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর ধানি জমি, সবজিখেত ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছেই। এতে বৃহত্তর বড়দুয়ারা, মাহালিয়া, কাটাখালীকুল, নতুনপাড়া ও বটতল হিন্দুপাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
আবার অনেক ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় ডলু নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করলে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা পাড় রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পৌরসভার থানা ঘাট ও নুরুর দোকান এলাকায় পাড় উপচে পানি ঢুকে থানা, চৌকি আদালত, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, পৌরসভা, সরকারি কলেজ, সার্কেল অফিস, ভূমি অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ে। এ ছাড়াও সামিয়ার পাড়া, আশেকর পাড়া, বোয়ালিয়া পাড়া, খলিফা পাড়া, গোয়াজর পাড়া, চর পাড়া ও ইছামতিকুলের অসংখ্য বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৬.৬০ মিটার, ৯টায় ৬.৬৯ মিটার এবং বেলা ১২টায় ৬.৭৫ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর পানির স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতিমুহূর্তেই সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ০.২০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এ সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডলু নদীটি ছোট হওয়ায় এর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচের তলা পানিতে ডুবে গেছে। এসবের মধ্যেও আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেড় হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত