শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৭-০৯
খাগড়াছড়িতে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে সাজেক, লংগদু ও বাঘাইছড়িগামী সড়কে যান চলাচল।
এছাড়া মহালছড়ির মাইসছড়ি-কালোপাহাড়-জামতলী এলাকায় সড়ক প্লাবিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নে দেখা যায়, শত শত ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
বেতছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া কমলা বেগম বলেন, হঠাৎ করেই পানি বেড়ে যাওয়ায় পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারেননি। ঘরের সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে।
জোবাইদা বেগম জানান, বন্যার পানিতে তাদের ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্র ডুবে রয়েছে। কীভাবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
মেরুং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি। অধিকাংশ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলেও সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য নেই। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ এলাকার প্রায় সব নলকূপই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, উপজেলার কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। লংগদু-মেরুং সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং বাজার ও বেলছড়ি এলাকার সড়ক পানির নিচে থাকায় লংগদু সড়কে যান চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো সাজেক সড়কের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ, মেডিকেল টিম গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাতের বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীর পানি সামান্য কমলেও মাইনী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা সদরের কয়েকটি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আংশিক কমলেও বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া ও বটতলার কিছু এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত