বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ভার পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড!

Passenger Voice    |    ১১:০২ এএম, ২০২৬-০৭-০৬


বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ভার পাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড!

সরকারের চলমান কার্যক্রম ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছেই যাচ্ছে। কিন্তু এই টার্মিনালের পরিচালনার ভার বিদেশিদের না দিতে ৫ মাস আগে ৭ দিনের কর্মবিরতি দিয়ে বন্দর অচল করে দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। বর্তমানে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিষয়টি আবার আলোচনায় এলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছেন ৫ মাস আগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

গত ৪ জুন এই বিষয়ে দুটি দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করে মন্ত্রণালয়। প্রথম চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে চলমান নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অথবা নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক না হলে, সে ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সেদিন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করতে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের একই কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি ইস্যু হয়। ওই চিঠিতে বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলা হয়, পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যালোচনার লক্ষ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ জুনের সভার আলোচনা মোতাবেক ওই প্রকল্পের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। বর্তমানে সরকার এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির পর্যায়ে রয়েছে। 

এদিকে গত ১ জুলাই বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের উদ্বোধন শেষে এনসিটি ইস্যুতে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইউএই প্ল্যাটফর্ম বৈঠকে এনসিটির বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরপর সরকার একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে, যা পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। 

কোনো কিছু গোপন করা হবে না জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের স্বার্থে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। সরকারের ওপর আস্থা রাখুন। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কিছু গোপন করা হবে না এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। 

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান আরও বলেন, আরব আমিরাতে আমাদের প্রায় ২৬ লাখ প্রবাসী আছেন। দেশটি থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আমাদের দেশে আসে। বিভিন্ন কারণে এতদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ কারণে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পারস্পরিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও মাঝেমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

সরকারের কার্যক্রম ও বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য থেকে ধারণা করা যায়, এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতেই সব প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। 

পাঁচ মাস আগের সেই সরব আন্দোলন এখন কেন নীরবতায় রূপ নিল তা জানার চেষ্টা করেছে খবরের কাগজ। এই নীরবতা কি আন্দোলনের নয়া কৌশল নাকি বন্দর শ্রমিক নেতাদের সমর্থিত দল ক্ষমতায় থাকার কারণই জোরদার আন্দোলনের পথে বড় বাধা, তা বের করার চেষ্টা করেছে প্রতিবেদক।

পাঁচ মাস আগে কেমন ছিল আন্দোলনের গতি চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ওই রায়কে কেন্দ্র করে অফিস চলাকালীন চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবনে, ফয়ারে এবং বন্দর ভবন এলাকায় মিছিলে অংশ নেন। সেখানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীর এবং বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান।

বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা না দিতে দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে যায় চট্টগ্রাম সুরক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশে জুয়েলারি সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন।

এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা না দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি বাদে) পর্যন্ত সাত দিনের ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই ধর্মঘটের কারণে পণ্য সরবরাহে ভাটা পড়ে। ইয়ার্ডে বাড়তে থাকে কনটেইনারের সারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়ে বন্দর। 

পরবর্তী সময় কর্মসূচি নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসলেও আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি সংগঠনটির নেতারা। মূলত ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জোরদার ছিল আন্দোলন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর থেকেই নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, বন্দর শ্রমিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন। 

বর্তমানে আন্দোলন কারা চালিয়ে যাচ্ছে
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা স্মারকলিপি প্রদান, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ নীরবতার কী কারণ? 
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনের সঙ্গে গত ৮ জুন ও ১৬ জুন কথা হলে তিনি জানান, সরকার এনসিটি ইস্যুতে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলন জোরদার করা হবে। এরপর স্কপ বা বন্দর রক্ষা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি দিলেও তার সংগঠন ছিল নীরব। সম্প্রতি বন্দর চেয়ারম্যান এনসিটি ইস্যুতে মুখ খুললে স্কপ বা বন্দর রক্ষা কমিটি সঙ্গে সঙ্গে বিবৃতি দিলেও নীরব ভূমিকায় ছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। অথচ ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের সময় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন। 

এই নীরবতার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু ধারণা পাওয়া যায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিক দলনেতা হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে। গতকাল রবিবার তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমরা যেভাবে আন্দোলন করেছিলাম, সেখান থেকে এক চুলও বিচ্যুত হইনি। আগে যেভাবে আন্দোলন করেছি, সে আন্দোলন করতে আমরা এখনো প্রস্তুত। যেহেতু এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায়, এনসিটি-সিসিটি ইস্যুতে আমরা সরকারকে বোঝাতে চাই এবং সে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। কিন্তু সরকার যদি না বোঝে তখন শ্রমিকের স্বার্থে যেটা করার আমরা সেটা করব।’

হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আগের সরকার ছিল অরাজনৈতিক সরকার, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এখন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। ইতোমধ্যে আমাদের ওই রকমই কথা হয়েছে। গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলতে পারি না। আমরা আশা করছি সরকারকে এই ব্যাপারে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দল করি বলেই সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করছি। সরকার যদি না বোঝে তখন আমাদের ভিন্ন চিন্তা করতেই হবে।’ 

এনসিটির যন্ত্রপাতির মেয়াদ নিয়ে ভিন্ন তথ্য
গত ১ জুলাই ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের উদ্বোধন শেষে এনসিটি ইস্যুতে কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। কথার একপর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, বন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যন্ত্রপাতির সচল থাকার হার ৯৩ শতাংশের বেশি হওয়া প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এ হার আরও কমে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তখন কিন্তু আমরা এখন যে অর্জন দেখাচ্ছি সেটিও বাধার সম্মুখীন হবে। নিজস্ব অর্থায়নে নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে চাইলে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত হয়ে ব্যয় আরও বাড়বে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড দায়িত্ব পেলে তাদের বিনিয়োগে এক বছরের মধ্যে যন্ত্রপাতি বসাবে। কারণ যন্ত্রপাতি বসিয়ে তো তাদের আয় করতে হবে। লাভ না করলে তারা বিনিয়োগ কেন করবে? 

কিন্তু খবরের কাগজের সঙ্গে আলাপকালে গত ১৬ জুন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, বর্তমানে এনসিটিতে বসানো যন্ত্রপাতির মেয়াদ রয়েছে ১৫ বছরের ওপরে। এখানে নতুন করে বিনিয়োগের কিছু নেই। 

অপরদিকে গতকাল হুমায়ুন কবীরও একই সুরে বলছেন, আমাদের যন্ত্রপাতিগুলো একেবারেই আধুনিক এবং সক্ষম। আমরা বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চাই না। চেয়ারম্যান তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কথা বলেছেন। আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি আমাদের যন্ত্রপাতিগুলো একেবারেই আধুনিক এবং সক্ষম। আমাদের যন্ত্রপাতি ভালো আছে তার প্রমাণ হলো- আমরা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। যন্ত্রপাতি ভালো আছে বলেই তো এটা সম্ভব হয়েছে।

সেদিন এনসিটি ইস্যুতে আর যা বলেছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান
গত ১ জুলাই বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বন্দর কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ। এনসিটি-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র, জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের (জি-টু-জি) প্ল্যাটফর্ম বৈঠকে প্রথম ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প হিসেবে বিষয়টি এগিয়ে নিতে লেনদেন-পরামর্শক (ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার) নিয়োগ দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসিও যুক্ত রয়েছে।

তবে এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরও জানতে গতকাল বন্দর চেয়ারম্যানকে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। 

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সবার সম্পদ। বন্দর শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেন এটি সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।