শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৭-০৫
বরিশালের মুলাদীতে খানাখন্দে ভরা কাদা-মাটির সড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাছুয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার হোসনাবাদ, বলরামপুর ও পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের অন্তত পাঁচটি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলো এখন হাঁটুসমান কাদা ও বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শতাধিক শিক্ষার্থী এবং বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হোসনাবাদ নতুন রাস্তা নামে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক সরকারি পুকুরপাড় থেকে মাস্তান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে চাষাবাদের জমির মতো অবস্থায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লাবিব হাসান হৃদয় জানান, গাছুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরপাড় থেকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী। এ বিদ্যালয়ে প্রতিদিন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। পাশাপাশি বি ডি সি এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। কাদার কারণে অনেক শিশু পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে এবং বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এলাকায় প্রায় ৫০০ জনের বেশি বৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
হোসনাবাদ থেকে বলরামপুরসহ পাঁচ গ্রামের সংযোগ সড়কও একই অবস্থায় রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে সৈয়দেরগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইসলামাবাদ নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে। বর্তমানে সড়কটি যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান খান বলেন, সরকারি পুকুরপাড় থেকে মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, পৈক্ষা হোসনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৈক্ষা নোমরহাট এবং পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রি কলেজে যাওয়ার একমাত্র পথ। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় জুতো খুলে হাতে নিয়ে কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্লাসে না গিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় তারা।
এ বিষয়ে গাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, কাঁচা সড়ক সংস্কারের জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবেদন পাওয়া গেছে। প্রকল্প তৈরি করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, চলাচল অনুপযোগী সড়কের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ইউনিয়ন প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত