শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৪১ পিএম, ২০২৬-০৭-০৫
দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৬১ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ শিশু। এ সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৩৪ জনের, যা মোট নিহতের প্রায় ৩১ শতাংশ।
রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই সময়ে ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে থ্রি-হুইলারে। এসব যানবাহনের ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির ৩৭ জন, বাসের ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ১৪ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭ পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৫৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।
সড়কের পাশাপাশি জুনে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮ জনের এবং আহত হয়েছেন ৭ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এসব দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত