শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৪৪ পিএম, ২০২৬-০৭-০৩
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ডের অনুমোদিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী জাহাজকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। শুক্রবার (০৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। দেশটির এ বক্তব্যের পর ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এ হুঁশিয়ারি দেয়।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া বা নৌ চলাচলের প্রোটোকল অমান্য করার যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।
বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতির পর ইরান এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, বাহরাইনে একটি নিরাপত্তা সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নেতারা প্রণালিটিতে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বৃহস্পতিবার সেন্টকমের বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই ফোরাম পারস্য উপসাগরে আইনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছত্রছায়ায় এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে দুই পক্ষের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনায় এটি এখন একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোকে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে তেহরান।
মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটিতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শনিবার যথাক্রমে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাসহ এসব ঘটনার বেশিরভাগের জন্যই তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকে নৌপথে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। তবে বর্তমানে এ সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক প্রায় ১৩০টি পারাপারের তুলনায় এখনও অনেক কম। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অন্তত ৪৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আর মঙ্গলবার ৩৪টি জাহাজ পার হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত