শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৪ এএম, ২০২৬-০৭-০৩
দুপুরে গোসল সেরে নতুন পোশাক পরে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সামনে বসেছিল সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু বন্ধন চন্দ্র রায়। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন বাবা প্রশান্ত চন্দ্র রায়, আর পেছনে বসেছিলেন দাদা নির্মল চন্দ্র রায়। গন্তব্য ছিল তুলসীহাটের একটি বিয়েবাড়ি। কিন্তু সেই পথ আর শেষ করা হলো না তাঁদের।
বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারের জুট মিল-সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাবা প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় দাদা নির্মল চন্দ্র রায়কে (৭৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত বন্ধনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ)।
প্রায় ১০ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এনআইসিইউতেই থেমে যায় ছোট্ট বন্ধনের জীবন। এক দিনের ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় একটি পরিবারের তিন প্রজন্ম। নিহত নির্মল চন্দ্র রায় ও তাঁর ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার বাসিন্দা। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় পল্লিচিকিৎসক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া থেকে বড়াইবাড়ীর দিকে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন তিনজন। মন্থনা বাজারের জুট মিলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন মোটরসাইকেলচালক। এ সময় সড়কে পড়ে থাকা ধানের খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে যায়। মুহূর্তেই ট্রাকের সামনের চাকার নিচে চাপা পড়েন বাবা, ছেলে ও নাতি।
স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে একে একে মারা যান বাবা, দাদা এবং সবশেষে ছোট্ট বন্ধন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত