শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫৪ এএম, ২০২৬-০৭-০১
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বা বিপিএম৬ অনুযায়ী নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৯০ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মূলত তিন ধরনের রিজার্ভের হিসাব করা হয়।
প্রথমটি হলো গ্রস রিজার্ভ, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার ঋণও অন্তর্ভুক্ত থাকে। বর্তমানে এ রিজার্ভের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয়টি হলো আইএমএফের ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) অনুযায়ী হিসাব করা নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ। এ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিল বাদ দেওয়া হয়।
বর্তমানে এ রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া আরেকটি সূচক হলো ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। এটি নির্ধারণ করা হয় নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায়-দেনা ও বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে গ্রস ও বিপিএম৬ অনুযায়ী নিট রিজার্ভ প্রকাশ করলেও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে শক্তিশালী রিজার্ভ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আস্থার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
একটি দেশের রিজার্ভের সক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হলো, সেই রিজার্ভ দিয়ে কত মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ ধরা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের কারণে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান দেশের বহির্বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত