চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি

Passenger Voice    |    ১১:১৭ এএম, ২০২৬-০৬-৩০


চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী ছাউনি বা ওয়েটিং লাউঞ্জ নেই। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত যাত্রী ও তাদের স্বজনরা। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বৃষ্টি হলেই ঠাঁই পেতে সামনের পার্কিং মাঠের দুই পাশে থাকা মাত্র দুটি দোকানে হুড়োহুড়ি ও ঠাসাঠাসি করে দাঁড়াতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের কনকোর্স হলের বাইরে পার্কিং এলাকার বিশাল মাঠটি পুরোপুরি উন্মুক্ত। রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে বাঁচার মতো কোনো যাত্রী ছাউনি সেখানে নেই। তবে পার্কিংয়ের পশ্চিম পাশে গাছের প্রাকৃতিক ছায়া থাকায় যাত্রীর স্বজনরা রোদ থেকে কিছুটা রক্ষা পেলেও বৃষ্টিতে রক্ষা পান না। মাঠের দুই প্রান্তে দুটি ছোট কনফেকশনারি ও চায়ের দোকান রয়েছে। আকাশ মেঘলা হলেই কিংবা বৃষ্টি শুরু হলেই শত শত মানুষ ওই দোকান দুটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় সেখানে তৈরি হয় এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রতি সম্মান জানাতে অতি দ্রুত টার্মিনালের বাইরে একটি সুপরিসর, আধুনিক যাত্রী ছাউনি এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হোক।

বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক প্রবাসীর বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই চার বছর পর ওমান থেকে দেশে ফিরছে। তার বিমান নামার কথা ছিল দুপুর ১২টায়, কিন্তু সেটি লেট করে ২টায় নেমেছে। দুই ঘণ্টা ধরে আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগে বৃষ্টিতে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা পাইনি। বাধ্য হয়ে পার্কিংয়ের কোণার একটি ছোট টং দোকানে আরও ৫০-৬০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েছি। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনি পর্যন্ত নেই, এটা ভাবতেই লজ্জা লাগে।’

একই ভোগান্তির কথা জানান ফটিকছড়ি থেকে আসা রাবেয়া বেগম। তিনি তার স্বামীকে বিদায় জানাতে এসেছেন। কোলে চার বছরের শিশুকে নিয়ে একটি দোকানের চালার নিচে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা রাবেয়া বলেন, ‘কোলের বাচ্চা নিয়ে সকাল থেকে রোদে পুড়েছি। এখন বৃষ্টিতেও ভিজতে হচ্ছে। এখানে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দোকানদাররাও বিরক্ত হচ্ছেন। আমরা তো ফ্রিতে আসিনি, পার্কিং ফি দিয়ে ভেতরে ঢুকেছি। তাহলে আমাদের বসার জায়গা কেন থাকবে না?’

সাতকানিয়া থেকে আসা আরেক ভুক্তভোগী তরুণ ব্যবসায়ী জাহেদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বলা হলেও এর সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ বাস টার্মিনালের চেয়েও খারাপ। বিমানবন্দরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়, অথচ সাধারণ মানুষের বসার একটি শেড তৈরি করার কথা কারও মাথায় আসে না।’

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পার্কিংয়ের দুই পাশে দুটি যাত্রী ছাউনি থাকার কথা জানালেও সেগুলোতে দোকান ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। দোকানিরা ক্রেতাদের বসার জন্য চেয়ার দিয়ে ছাউনি দখল করে রেখেছে। এতে ছাউনি দুটি দর্শনার্থীদের কোনো কাজে আসে না।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকৌশলী ও মুখপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘পার্কিংয়ের দুই পাশে দুটি যাত্রী ছাউনি আছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ভবিষ্যতে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে যাত্রী ছাউনি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। বর্তমানে যে যাত্রী ছাউনি আছে সেটা ২০০১ সালের মাস্টারপ্ল্যানের। বর্তমানে নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন কাজ করা হবে।’