শিরোনাম
যাত্রী পরিবহনে ক্ষতস্থানে মলম লাগাচ্ছে বিআরটিএ
Passenger Voice | ১১:২৯ পিএম, ২০২৬-০৬-২৯
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্থ, রংচটা, জরাজীর্ণ, বিবর্ণ অবস্থায় কালো ধোঁয়া নির্গমন করে রাজধানীর যাত্রী সেবা দেয়া বাস গুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উদাসিন ছিল বিআরটিএর কর্মকর্তারা, এবার এইসব পরিবেশ দূষণকারী গণপরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান। ফলে অনেকে মনে করছে যাত্রী পরিবহনে ক্ষতস্থানে এবার মলম লাগাচ্ছে সংস্থাটি। তবে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্য সৎ হলেও বাস্তবায়ন ততটা সহজ হবে না। দীর্ঘ দিন ঘুমিয়ে থাকা বিআরটিএর কর্মকর্তাদের ঘুম ভাঙ্গানো অনেক কষ্টসাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
বিআরটিএর চেয়ারম্যান মনে করছে জনস্বার্থে নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংস্থার এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে আবারও হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি হবে।
বিআরটিএর সূত্র বলছে গত ১৮ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো এলাকায় নিবন্ধিত ১৭ বাসের মালিকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ব্যাখ্যা চাওয়া ১৭ টি বাসের মধ্যে ৮ টি বাসের ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের বৈধ মেয়াদ নেই। ব্যাখ্যা চাওয়া গাড়িগুলো হলো ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৭৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৪৫, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৪২, ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮০৬১, ঢাকা মেট্রো-ব-১২-০২১০, ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১০২৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-১৭৩২, ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৫১৭, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৩৬৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৫৭৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৫৪১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৮৮৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৮৯৫, ঢাকা মেট্রো-ব-১২-০৯০১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৫৯৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৭০০, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৮৮০।
প্যাসেঞ্জার ভয়েসের একটি সূত্র বলছে, সংস্থাটি রাজধানীর ঢাকায় ৪৪৭৪৬ টি বাসের নিবন্ধন প্রদান করেছে। তার মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত ৭১২ টি বাসের নিবন্ধন প্রদান করেন। পূর্বের বছর গুলোর তথ্য বলছে ২০২১ সালে ১২১৩ টি, ২০২২ সালে ২২৩৩ টি, ২০২৩ সালে ১৮৮৭ টি, ২০২৪ সালে ১০৭৫ টি, ২০২৫ সালে ১৪৯৭ টি বাসের নিবন্ধন দেয় সংস্থাটি। তবে নিবন্ধিত বাসের প্রায় ৩৪ শতাংশ বাসের ফিটনেস ট্যাক্স টোকেনের কোন বৈধ মেয়াদ নেই।
২০১৮ সালে বিআরটিএর মিরপুর সার্কেলে নিবন্ধিত ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৮০ থেকে ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭৯ পর্যন্ত ১০০ টি বাসের তথ্য যাচাই করে প্যাসেঞ্জার ভয়েস নিশ্চিত হয়েছে যে, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৮৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৮৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৮৭, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৮৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯২, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪৯৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫০৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫০৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫১৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫১৫, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫১৮, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫১৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫২১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫২২, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৩৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৩৭, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৩৮, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৪২, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৪৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৫৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৬১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৬৩, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৬৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৬৮, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭০, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭১, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭৪, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭৫, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭৬, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৫৭৭ এই ৩৪ টি বাসের ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন মেযাদোত্তীর্ণ।
বিআরটিএর আদালতঃ তবে এইসব অনিয়ম বন্ধে বিআরটিএর ১৬ টি আদালত রয়েছে । সেখানে ১৪ জন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। তারমধ্যে ৯ জন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শুধু রাজধানী ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের তথ্য বলছে মাসজুড়ে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে ২৫৮ টি। এতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন করায় ১৩৫১ টি মামলা, ৬ জনের কারাদন্ড, ১১৪ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৩৩,৫১০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিআরটিএর তথ্য বলছে সবচেয়ে বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ারের আদালত-৬। বিআরটিএর বলছে, গত জানুয়ারী মাসে ২৬ টি কোর্ট পরিচালনা করে ৩৮৩ টি মামলা, ৪ জনের কারাদন্ড, ২৯ টি গাড়ি ডাস্পিং করেন, এছাড়াও ৯,৯৮,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। একই ভাবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৫৩ টি আদালত পরিচালনা করে ৪৪০ মামলায় ১৩,৪৩,০০০ টাকা জরিমানা আদায়, ৪ জনের জেল ও ৩৬ টি গাড়ি ডাম্পিং করেন। এই তিন মাসে অন্যান্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের চেয়ে মামলা ও জরিমানা আদায় করেছেন তিনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত