শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৬-২৬
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি ও চতুরা গ্রামে তিস্তা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করায় তীব্র স্রোতে তিস্তা নদীর পূর্বপাড় প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত জিও ব্যাগ ভেঙে ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমিন ও গাছপালা।
শুক্রবার (২৬জুন) ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী তীর রক্ষার জন্য প্রটেকশনকৃত জিও ব্যাগ প্রচন্ড স্রোতের তোড়ে নদীতে ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৩টি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ২০টি বাড়ি সেখানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামহরি মৌজায় গত এক সপ্তাহে ২৫টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, তিস্তার ভাঙন রোধে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্যাকেজের মাধ্যমে পূর্ব তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারদের অবহেলা এবং শুকনো মৌসুমে কাজ না করে ভরা বর্ষা মৌসুমে তাড়াহুড়ো করে জিও ব্যাগের কাজ বাস্তবায়ন করায় সেগুলো আর আটকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে ডাম্পিং কাজ সম্পাদন না করায় সেই জায়গাগুলোতে ভাঙন দেখা যায়।
রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জাহেরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এসে যাচ্ছে অথচ পাউবো এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। অবহেলা ও ধীরগতি কাজের খেসারত দিচ্ছে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এছাড়া প্যাকেজ বন্টনে অফিসের লোকজন গাফিলতি করায় সময় মতো ডাম্পিং কাজ শেষ করতে পারেনি। আমরা লক্ষ্য করছি একজন লেবার সর্দার দিয়েই পুরো প্যাকেজের কাজ শেষ করতে গিয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি এলাকার খলিল মিয়া বলেন, যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে আমার বাড়ি ঘর যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাবে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। ছাওয়া-পাওয়া নিয়ে কই যামো কই থাকমো। চিন্তায় পড়ে গেছি।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে এসে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সুষ্ঠুভাবে ও দ্রুতগতিতে কাজ সম্পাদনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তিস্তার পূর্ব তীর সংরক্ষণ কাজে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন প্রতিরোধে যথাসাধ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত