বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

Passenger Voice    |    ১২:৫৩ পিএম, ২০২৬-০৬-২৬


বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কাস্টমস)। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে বন্দরের ৩১ নম্বর শেড থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাকটি ২৩ জুন রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। গতকাল এটি খালাসের উদ্দেশ্যে ৩৫ নম্বর শেডে যাওয়ার কথা থাকলেও না গিয়ে সন্দেহজনকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটিতে থাকা পণ্য নির্ধারিত ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই সরিয়ে ফেলা হয়। বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আটক করে।

পরে কাস্টমসকে অবহিত করা হলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি, যার মধ্যে খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।

সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ হাজার ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। এতে প্রায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের নাম ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি লিখিতভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তা তাঁদের জানা নেই। ট্রাকটি কিংবা পণ্যের চালান গ্রহণে তাঁদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না।

তিনি প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের চালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি কাস্টমসকে জানানো হয়। পরে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।’