শিরোনাম
ফৌজদারি অপরাধ করেও পদোন্নতি পেয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান
Passenger Voice | ০৩:৩৬ পিএম, ২০২৬-০৬-২৫
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতিবাজদের বাহুবল থেকে কোনভাবে রক্ষা পাচ্ছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। স্বচ্ছতা-জবাবদীহিতা নিশ্চিতকল্পে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান জারপরনায় চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। এবার বিআরটিএর সফটওয়্যার এর দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা কৌশলে ঘুষ নিয়ে সরকারের রাজস্বের গচ্চা দিচ্ছে। সরকার বিভিন্ন সময় মোটরযানের বিভিন্ন ফি বর্ধিত করলেও ঘুষ পেলে সেই টাকা আদায় করতে অনিহা প্রকাশ করে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা। গত ৬ মাসে মোটরসাইকেল নিবন্ধন দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা সরকারের রাজস্বের ক্ষতি করেছে সংস্থাটির যশোর সার্কেলে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান। গত ৬ মাসের অধিক সময় ধরে এই কর্মকর্তা উক্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালন করলেও গত ১৬ জুন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের স্মারক নং-৮০.০০.০০০০.১১৩.১২.০০৯.২৬-২৯ সংখ্যক স্বারকে তাকে সহকারী পরিচালক (সাধারণ) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সংস্থাটি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার বৈষম্যহীন, সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত, সম-অধিকারভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএতে দুর্নীতির হার ৭৯.৩ শতাংশ এবং ঘুষের হার ৬৩.৫ শতাংশ। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সেবা খাতের এই সংস্থাটির অবস্থান ২য়। খানা জরিপ ২০২৫-এ জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫.৯ শতাংশ বেশি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ১.৫৮ শতাংশের সমান।
বিআরটিএর তথ্য বলছে, ১০১ সিসির মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ১৬০ সিসির মোটরসাইকেল নিবন্ধনে বিআরটিএ ৬ খাতে ১১,৭৬৪ টাকা ফি আদায় করেন। তারমধ্যে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট বাবদ ২২৬০ টাকা, ইস্যু অব নিউ রেজিষ্ট্রেশন ৪৩৭০ টাকা, সাপ্লিমেন্টরি ডিউটি ১১২৯ টাকা, ইস্যু অব ট্যাক্স টোকেন ২৩০০ টাকা, কন্টিভিউশন টু ফিন্যান্সিয়াল এসিস্টেন্স ফান্ড ১১৫০ টাকা, ডিজিটাল রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট ৫৫৫ টাকা।
২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন মাসের পূর্বে মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশন ফি ছিল ১০১৫২ টাকা। ২০২৩ সালের সরকার রেজিষ্ট্রেশন ফি বর্ধিত করেন। পূর্বে যে ৫ খাতে টাকা আদায় করত সরকার, তারমধ্যে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট বাবদ ২২৬০ টাকা, ইস্যু অব নিউ রেজিষ্ট্রেশন ৩৯৬৮ টাকা, সাপ্লিমেন্টরি ডিউটি ১০৬৯ টাকা, ইস্যু অব ট্যাক্স টোকেন ২৩০০ টাকা, ডিজিটাল রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট ৫৫৫ টাকা।
বিআরটিএর সফটওয়্যার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন এর বর্ধিত ফি সরকারের কোষাগারে জমা না দিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ হাসিল করেছেন নাহিদুজ্জামান। গত ৬ মাসে এই সার্কেলে মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশনে ২ ধরণের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। আর এই কাজে তার সহযোগী ছিল ওই সার্কেলের দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেটর পদে নিযুক্ত রফিকুল ইসলাম উরফে রফিক। রফিকুল ইসলাম বিআরটিএর কর্মচারী না হলেও দীর্ঘ বছর ধরে এই সার্কেলে তিনি কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করেন। এই সার্কেলের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসিয়াল আইডি/পাসওয়ার্ড এই রফিকের কাছে থাকে এবং সব ধরণের অনলাইন সংক্রান্ত কাজ তিনি একাই করেন। এছাড়াও এই ধরণের অনিয়ম সংক্রান্ত সকল ঘুষ লেনদেন এই রফিকের মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে জানা যায়।
যেভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেঃ ২০২৩ সালের পূর্বে জমাকৃত ১০১৫২ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি দিয়ে ২০২৬ সালে সরকারের বর্ধিত ১৬১২ টাকা অতিরিক্ত ফি আদায় না করে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেছেন। ফলে এই ধরণের শতাধিক নিবন্ধনে প্রায় ১,৬১,২০০ টাকা রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে। যার প্রমানস্বরুপ নিম্নে২২ টি মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে। যশোর-ল-১৭-৫২৫৪, যশোর-ল-১৭-৩২৮০, যশোর-ল-১৭-৩২৭৬, যশোর-ল-১৭-৫৮২১, যশোর-ল-১৭-৫৮০১, যশোর-ল-১৭-৫৭৯০, যশোর-ল-১৭-৫৫৮৫, যশোর-ল-১৭-৩২২০, যশোর-ল-১৭-৩১৮৭, যশোর-ল-১৭-৩১৮৪ যশোর-ল-১৭-৩৪৫৩, যশোর-ল-১৭-৩৪৩৭, যশোর-ল-১৭-৩৪২৬, যশোর-ল-১৭-৩৪২৫, যশোর-ল-১৭-৩৩২৬, যশোর-ল-১৭-৩৫৩০, যশোর-ল-১৭-৫১৯৬, যশোর-ল-১৭-৫১৯৫, যশোর-ল-১৭-৫১৭৫ যশোর-ল-১৭-৪১২০, যশোর-ল-১৭-৩৯৪০, যশোর-ল-১৭-৩৮৫৭। এই নাম্বার গুলো প্রদানে ১১৭৬৪ টাকা করে রাজস্ব আদায় করার দায়িত্ব ছিল এই বিআরটিএর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার।
রাজস্ব ফাঁকির ভয়াবহ আরেক জালিয়াতিঃ অন্যদিকে আরেক ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য এসেছে প্যাসেঞ্জার ভয়েস এর হাতে, Chassis no- MD624HC16H2K86252 এই মোটরসাইকেলটি রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য ২০১৮ সালের ১১ মার্চ এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এর সাতক্ষীরা শাখায় রেজিষ্ট্রেশন ফি জমা করেন মো. বেলাল হোসেন। যার E-TRACKING NO-18031111165710, TRAN NO-1803111174324 পরবর্তীতে এই চ্যাসিস এর মোটরসাইকেলটি ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর গোলাম রাসেল নামের এক ব্যক্তির নামে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করে যশোর সার্কেল অফিস। যার রেজিষ্টেশন নং- যশোর-ল-১৭-৩০৫০। রেজিষ্ট্রেশন ফি জমা স্লিপের নামের সাথে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত ব্যাক্তির নামের মিল না থাকলে আইনানুযায়ী প্রথম ব্যক্তির নামে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করে ২য় ব্যক্তির নামে মালিকানা পরিবর্তন করার কথা, অথবা রেজিষ্ট্রেশনের সাথে মালিকানা পরিবর্তন ফি ও মালিকানা সংক্রান্ত হলফনামা গ্রহণ করে ২য় ব্যক্তির নামে রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের নিয়ম রয়েছে।
প্যাসেঞ্জার ভয়েসের তথ্য বলছে রফিকের মাধ্যমে নাহিদুজ্জামানের কাছে প্রতি ফাইলে ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ প্রদান করলে কোন রকম জটিলতা ও মালিকানা পরিবর্তন ফি সরকারের কোষাগারে জমা না দিয়েই মোটরসাইকেল নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এমন ঘটনা প্রায় ঘটলেও পাঠকে সুবিধার্থে বেশ কিছু মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে। যশোর-হ-২২-৬২৩৩, যশোর-ল-১৭-৩০৫০, যশোর-ল-১৭-৫১৯৭, যশোর-ল-১৭-৩৮৬৭, যশোর-ল-১৭-৩৮৯৪, যশোর-ল-১৭-৪০১৮, যশোর-ল-১৭-৪০২৯, যশোর-ল-১৭-৫১৮০, যশোর-ল-১৭-৩৫০৫, যশোর-ল-১৭-৩৫৯৩, যশোর-ল-১৭-৩৬২৪, যশোর-ল-১৭-৩৭৩০, যশোর-ল-১৭-৩৩৮৫, যশোর-ল-১৭-৩৪৬৮, যশোর-ল-১৭-৩৪৬৯, যশোর-ল-১৭-৩৪৭১, যশোর-ল-১৭-৩১০১, যশোর-ল-১৭-৩১৬২, যশোর-ল-১৭-৩২০৬, যশোর-ল-১৭-৩২২১, যশোর-ল-১৭-৩২৭২, যশোর-ল-১৭-৩২৭৪, যশোর-ল-১৭-৩২৭৫, যশোর-ল-১৭-৫২৫৯, যশোর-ল-১৭-৫২৬৮, যশোর-ল-১৭-৫২৭০, যশোর-ল-১৭-৫২৭৬, যশোর-ল-১৭-৫৫৮৪, যশোর-ল-১৭-৫১৯৮, যশোর-ল-১৭-৫১৯৯,যশোর-ল-১৭-৫২১৭, যশোর-ল-১৭-৫২৫৪, যশোর-ল-১৭-৩২৮০, যশোর-ল-১৭-৩২৭৬, যশোর-ল-১৭-৫৮২১, যশোর-ল-১৭-৫৮০১, যশোর-ল-১৭-৫৫৮৫, যশোর-ল-১৭-৩২২০, যশোর-ল-১৭-৩১৮৭, যশোর-ল-১৭-৩১৮৪, যশোর-ল-১৭-৩৪৩৭, যশোর-ল-১৭-৩৪২৫, যশোর-ল-১৭-৩৩২৬, যশোর-ল-১৭-৫১৯৬, যশোর-ল-১৭-৫১৯৫, যশোর-ল-১৭-৫১৭৫, যশোর-ল-১৭-৪১২০, যশোর-ল-১৭-৩৯৪০, যশোর-ল-১৭-৩৮৫৭। নিবন্ধিত এই প্রতিটি মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন বাবদ সরকার সঠিক ভাবে ১১৭৬৪ টাকা রাজস্ব পেলেও প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন প্রদানে মূল ফাইলের কাগজপত্রের ব্যক্তির সাথে ফি জমাদানকারী ব্যক্তির নামের মিল নেই।
সূত্র বলছে একটি চ্যাসিসের উপর বিআরটিএর সফটওয়্যারে দুই ব্যক্তি রেজিষ্ট্রেশন ফি জমা দেয়ার সুযোগ নেই। ফলে রাজস্বের টাকা যাচাই-বাছাই করার সময় যখন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নিশ্চিত হবেন যে এখানে ফি জমা দেয়া ব্যক্তি ও রেজিষ্ট্রেশনের আবেদনকারী ব্যক্তি এক নয়। তখন মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মালিকানা পরিবর্তন ফি গ্রহণ করতে হবে।
বিআরটিএর দায়িত্ব কর্মবন্টন সংক্রান্ত নথী সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ফরম, জমা রশিদ ইত্যাদি সংগ্রহ ও বন্টন এবং রাজস্ব আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রেজিষ্ট্রেশন, মালিকানা বদলী, ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স, লাইসেন্স ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঠিকতা যাচাইপূর্বক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ)কে সহায়তা প্রদান করা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব।
কত টাকা রাজস্ব হারালো সরকারঃ যশোর-ল-১৭-৩০৫০ গাড়িটির মালিকানা পরিবর্তন করতে কত টাকা সরকারী ফি আসবে সেই বিষয়ে বিআরটিএর সাথে আলাপ করে প্যাসেঞ্জার ভয়েস। বিআরটিএর দেয়া তথ্য মতে এই মোটরসাইকেলটি মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে টান্সফার অব ওনার্শিপ বাবদ মূল ফি-১০০০ টাকা, পরিদর্শণ ফি-৮০০, ভ্যাট-২৭০ , ইস্যু অব ডুপলিকেট রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট বাবদ ৫৭৫ টাকা, ডিজিটাল রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট বাবদ ৫৫৫ টাকা, কন্টিভিউশন টু ফিন্যান্সিয়াল এসিস্টেন্স ফান্ড ১১৫০ টাকা, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি-৪৯০ টাকাসহ মোট ৪৮৪০ টাকা সরকারের কোষাগারে ফি জমা দিতে হবে। এবং বিআরটিএর টিএ, টিটিও ফরমসহ ৩০০ টাকার স্টাম্পে বিক্রয় রশিদ ও ২৫০ টাকা করে ২ টি ক্রেতা-বিক্রেতার হলফনামা প্রদান করতে হবে।
সেই হিসেবে উপরে উল্লেখিত ৫০টি মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের সময় মূল ফাইলের কাগজপত্রের ব্যক্তির সাথে ফি জমাদানকারী ব্যক্তির নামের মিল না থাকায় প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশনের বিপরীতে ৪৮৪০ টাকা করে আদায় করার কথা রাজস্ব কর্মকর্তার। ফলে এই ৫০ টি মোটরসাইকেল নিবন্ধন প্রদানে ২৪২০০০ টাকা মালিকানা ফি হারিয়েছে সরকার। একই সাথে ৮০০ টাকার স্টাম্প গ্রহণ না করায় এই খাতে সরকারের রাজস্ব হারিয়েছে ৪০ হাজার টাকা।
আইনে কি আছেঃ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি, ট্যাক্স ও বর্ধিত ফি আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া। যদি তিনি জেনেশুনে বা অবহেলার মাধ্যমে তা না করেন তাহলে এটি Negligence in official duty হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী সততা, নিরপেক্ষতা, আইনের প্রতি আনুগত্য এবং জনস্বার্থ রক্ষা সরকারি কর্মকর্তার মৌলিক দায়িত্ব। আইন বলছে এই রকম অপরাধের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা, ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত করতে পারে। একইসাথে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কর্মকর্তারা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ অনুযায়ী কোন কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে সরকারের বর্ধিত ফি আদায় করেননি বা ইচ্ছেকৃতভাবে কম রাজস্ব দেখিয়েছেন অথবা কোন ব্যক্তি বা ডিলারকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন তাহলে এটি ক্ষমতার অপ্রব্যবহার হিসেবে দুদকের তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সাথে General Financial Rules (GFR) লঙ্ঘন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষতির দায় হিসেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন পরিচালক (ইঞ্জিঃ) প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, বিআরটিএ যে দিন গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করবে সেই দিন সরকারের যে ফি নির্ধারিত থাকেবে সেটাই আদায় করতে হবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে। একই সাথে রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের সময় মূল ফাইলের কাগজপত্রের ব্যক্তির সাথে ফি জমাদানকারী ব্যক্তির নামের মিল না থাকলে মালিকানা পরিবর্তন ফি অবশ্যই জমা নিতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সেটা সরকারের রাজস্ব আত্মসাৎ বলে বিবেচিত হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত