শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:১৮ পিএম, ২০২৬-০৬-২৫
রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযাগ ব্যবস্থায় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া পদ্মা সেতুর চার বছর পূর্ণ হলো আজ বৃহস্পতিবার। ২০২২ সালের ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে শুরু হয় যান চলাচল। এরপর গত চার বছরে সেতু ব্যবহার করেছে আড়াই কোটিরও বেশি যানবাহন। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকারও বেশি। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে তার প্রায় অর্ধেক টাকা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা অর্থ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দেয় সরকার। বর্তমানে সেতুর ওপর তলায় সড়ক পথে চলছে যানবাহন আর নিচ দিয়ে ছুটছে ট্রেন।
পদ্মা সেতুর দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ সমকালকে জানান, পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশিই আদায় হচ্ছে। তারপরও সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এটা মানুষের ভোগান্তি লাঘবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বহুবিধ সুযোগ করে দিয়েছে।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হলেও পরদিন ২৬ জুন এই দিনে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। পরের বছর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতুর রেলপথ উদ্বোধন হয়। পদ্মা সেতু হয়ে চালু হয় ঢাকা-ভাঙ্গা নতুন রেল নেটওয়ার্ক। আর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর রেল লিঙ্ক প্রকল্প পুরোপুরি চালু হয়। এদিন রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা হয়ে নতুন পথে নড়াইল ও যশোর অতিক্রম করে খুলনা পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রাজধানী থেকে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় খুলনা ও বেনাপোল পৌঁছানো যাচ্ছে ট্রেনে। তাই এখন দক্ষিণের মানুষ সড়ক ও রেলপথের সুফল পাচ্ছে। এই সেতু ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে শুরু হয় যানবাহন চলাচলসহ টোল আদায় কার্যক্রম। গত বছর শুরু হয় ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহের কার্যক্রম (ই-টোল)। এ পদ্ধতিতে আর কোনো যানবাহনকে লাইনে দাঁড়িয়ে নগদ টাকায় টোল পরিশোধ করতে হবে না। কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের টোল কর্তন করে নেবে কর্তৃপক্ষ।
কত যানে কত টোল
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর ২০২২ সালে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন পদ্মা সেতু ব্যবহার করে। এ থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৫০ টাকা। পরের বছর আয় হয় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ। ২০২৪ সালে ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা আদায় হয়। আর চলতি বছরে গত ২৩ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ওই দিন পর্যন্ত মোট টোল আদায় হয়েছে তিন হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ এক হাজার ৪০০ টাকা। চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করেছে ২০২৫ সালে ৭২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৭টি।
অন্যদিকে সেতু চালুর পর থেকে গেল ঈদুল আজহার সময় এক দিনে টোল আদায় রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করে, যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার। ওইদিন টোল আদায় হয় পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর পরদিন ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ১১৮টি যানবাহন পার হয়। ওইদিন টোল আদায় হয় চার কোটি ৪৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড বলে জানা গেছে।
এক সেকেন্ডেই টোল পরিশোধ
পদ্মা সেতুতে স্বয়ংক্রিয় ই-টোল ব্যবহার করা গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর এই পদ্ধতি শুরু হয়। বর্তমানে পদ্মা সেতুতে ই-টোলে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে টোল আদায়ের পরিমাণ আট কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। এক সেকেন্ডের মধ্যেই টোল দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী কয়েকজন চালক জানান, ই-টোল ব্যবস্থায় নিবন্ধিত গাড়ি ইটিসি লেনে প্রবেশ করলে আরএফআইডি রিডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির ট্যাগ শনাক্ত করে। এরপর গাড়ির তথ্য যাচাই করে, টোলের পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং ওয়ালেট থেকে অর্থ কেটে নেয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে সাধারণত এক সেকেন্ডেরও কম। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যারিয়ার খুলে যায় এবং গাড়ি কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সেতু পার হতে পারে।
প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্টদের মতে, টোল সংগ্রহ ব্যবস্থায় এই স্বয়ংক্রিয়তা শুধু সময়ই বাঁচাচ্ছে না, একই সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনাকেও আরও দক্ষ করে তুলছে। এতে টোল সংগ্রহ আরও স্বচ্ছ হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এসপায়ার টু ইনোভেটের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আবদুল্লাহ আল ফাহিম সমকালকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি যানবাহন প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত হয়েছে এবং আট কোটি টাকার বেশি টোল আদায় করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার কিছু বেশি টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত