অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফি বাড়ছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ, বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম

Passenger Voice    |    ০১:১১ পিএম, ২০২৬-০৬-২৪


অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফি বাড়ছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ, বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম

নৌপথে চলা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের বিভিন্ন চার্জ ও ফি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এতে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়বে বলেছেন পরিবহন খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত মাসে সংশোধিত এ হার ঘোষণা করেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ফি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী অর্থবছর থেকে কার্গো জাহাজ, বাল্কহেড, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য নৌযানকে সংরক্ষণ ফি (কনজারভেন্সি চার্জ) হিসেবে প্রতি গ্রস টনে ১০০ টাকা দিতে হবে, যা বর্তমানে ৪০ টাকা। লঞ্চ মালিকদের প্রতি যাত্রীর বিপরীতে বার্ষিক সংরক্ষণ ফি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি—১৫০ টাকা দিতে হবে, বর্তমানে এটি ১১৫ টাকা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসারে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি আট ঘণ্টার জন্য পাইলটেজ ফি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে সরকার এসব ফি বাড়িয়েছিল। বর্ধিত হারের মধ্যে পণ্য ও যাত্রীবাহী—সব ধরনের নৌযানের বার্থিং ও মুরিং চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশীয় গণমাধ্যম ডেইলিস্টার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করে।

বাংলাদেশ কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাজমুল হোসেন হামদু বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। শুরুতে এ ধাক্কা আমাদের ওপর আসবে, এরপর সবার ওপর। কার্গো জাহাজে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও পরিবহন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়।

সেখানে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কারখানা ও গন্তব্যে পাঠানো হয়। সিমেন্টের কাঁচামাল থেকে শুরু করে গম, লবণ, ডাল ও পাথর পরিবহন করি।’

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক কাজী আবদুল করিম বলেন, ‘অপারেটররা বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবেন না।’ 

বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সাবেক এক সদস্য বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন তেলবাহী ট্যাংকার মালিকদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগের তুলনায় আমরা এখন প্রায় ৪৫ শতাংশ কম পেট্রোলিয়াম পরিবহন করছি।’