আগামী মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হচ্ছে সৌদি পরিচালিত টার্মিনাল

Passenger Voice    |    ১১:০৯ এএম, ২০২৬-০৬-২৩


আগামী মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হচ্ছে সৌদি পরিচালিত টার্মিনাল

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) আগামী জুলাই মাস থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করবে। সম্প্রতি তারা বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের পণ্য আমদানি ও রপ্তানির প্রধান পথ। গত বছর এই বন্দর প্রায় ৩৪ লাখ ১০ হাজার টিইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার) হ্যান্ডলিং করেছে। এর ফলে এটি বঙ্গোপসাগরের ব্যস্ততম কন্টেইনার বন্দরে পরিণত হয়েছে।

আরএসজিটি ২০২৪ সালের জুন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের ২২ বছরের একটি চুক্তি রয়েছে। গত শুক্রবার কোম্পানিটি এখানে চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে এসেছে। তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে এই সরঞ্জামগুলোর খুব প্রয়োজন ছিল।

আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসম্পর্ক বিভাগের প্রধান সৈয়দ আরিফ সারওয়ার আরব নিউজকে বলেন, 'আমাদের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে বন্দরের সুযোগ-সুবিধা গুছিয়ে নেওয়া, সব সাধারণ কাজ শেষ করা এবং প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরি করার কথা ছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'গত দুই বছর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে প্রাথমিক অপারেশন চলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন এসেছে। এর মাধ্যমে যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চূড়ান্ত ধাপ শেষ হলো।'

এই বিশেষভাবে তৈরি ক্রেনগুলো প্রস্তুত করেছে চীনা কোম্পানি স্যানি। এগুলো জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠানামার গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে। এগুলো ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এগুলো চালানোর সময় কোনো কার্বন নিঃসরণ হবে না।

সারওয়ার বলেন, 'এই ক্রেনগুলো এমনভাবে তৈরি যে এগুলো একসঙ্গে দুটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। বাংলাদেশের কোনো বন্দরে এটিই প্রথম। পুরো টার্মিনালটি বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলবে। এর অর্থ হলো, ক্রেনগুলো চালাতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি লাগবে না।'

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তারা নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো চালু করতে পারবেন। তখন থেকেই টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে। প্রয়োজন হলে তারা সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াবেন। তবে বর্তমানে যে যন্ত্রপাতি আছে, তা দিয়ে প্রত্যাশিত সব কন্টেইনার সামলানো সম্ভব।

এই সৌদি প্রতিষ্ঠানটিই বাংলাদেশের কোনো বন্দরে কাজ করা প্রথম বিদেশি কোম্পানি। তারা ধারাবাহিকভাবে পতেঙ্গা টার্মিনালের কাজের পরিমাণ ও স্থায়ী কর্মী বাড়াচ্ছে। বর্তমানে টার্মিনালটি ১ লাখ ৫৫ হাজার টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে। নতুন সরঞ্জাম আসায় চলতি বছর তা ৪ লাখে পৌঁছাবে। এটি চট্টগ্রামের মোট কন্টেইনার কার্যক্রমের প্রায় ১২ শতাংশ।

সারওয়ার জানান, আগামী বছর এই পরিমাণ ৫ লাখ টিইউএস ছাড়িয়ে যাবে। এটি হবে বন্দরের মোট ট্রাফিকের ১৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীর সংখ্যাও নিয়মিত বাড়িয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, 'বন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানের করতে আরএসজিটি এখন পর্যন্ত ১৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫০০ জন স্থায়ী কর্মী আছেন। এর বাইরে প্রায় ৮০০ জন চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'এই কর্মীদের সবাই বাংলাদেশি। আমরা তাদের দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কিছু কর্মীকে প্রশিক্ষণের জন্য সৌদি আরবেও পাঠানো হয়েছে। আমাদের দেশের বন্দর শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আরএসজিটি মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করে এই অভাব পূরণের চেষ্টা করছে।'