১১ মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা

Passenger Voice    |    ১২:০৪ পিএম, ২০২৬-০৬-২২


১১ মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে (জুলাই-মে) রাজস্ব আহরণে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ঘাটতিতে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, এ ১১ মাসে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস শেষে এনবিআরের লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতির হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। গতকাল এনবিআর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় এনবিআরের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। লক্ষ্য পূরণে অর্থবছরের শেষ মাস তথা চলতি জুনে আরো ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে এনবিআরকে, যা অসম্ভব বলেই সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য বলছে, চলতি জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। সে হিসাবে ২০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায়।

অবশ্য এনবিআরের দাবি, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়েছে, সেটি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে এ আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সে হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকার রাজস্ব বেশি আয় হয়েছে, এক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের বেশি। কাস্টমস অনুবিভাগের আদায়ে ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভ্যাট অনুবিভাগের আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আর আয়কর অনুবিভাগের আদায়ে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছিল এনবিআর। সে হিসাবে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ১০ দিন আগেই গত অর্থবছরের মোট আদায় ছাড়িয়ে গেছে। চলতি জুনের শেষ ১০ দিনে আরো ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। সে হিসাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জিত হলেও অর্থবছর শেষে ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় ঘাটতিতে থাকবে সরকার।

এনবিআরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজস্ব আহরণের গতি বাড়াতে এরই মধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব টাস্কফোর্স আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় থাকা বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া কর ফাঁকি শনাক্ত করে রাজস্ব পুনরুদ্ধার, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে কর দাবি সৃষ্টি ও আদায়, উৎসে আয়কর ও উৎসে ভ্যাট আদায় কার্যক্রমের তদারকি, কাস্টম হাউজের পোস্ট- ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের আয়কর ও ভ্যাট অডিট সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে এনবিআর। সংস্থাটি মনে করছে, এসব কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রমে গতি এসেছে এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরো গতিশীল হয়েছে।