শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:৩২ পিএম, ২০২৬-০৬-২১
রোববার (২১ জুন) পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ।
থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩৮৪, ৪২০ ও ৫০৬ ধারার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০/৯২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে।
অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে গত ৮ জুন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা প্রদানের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
আদালতের নির্দেশনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলা দায়েরের জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ জুন বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেইট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আশিকুর রহমান আশিক, যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ চৌধুরী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মারুফসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও কিছু চালক দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছেন। বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন প্রবেশে বাধা দেওয়া, চালকদের হুমকি দেওয়া এবং ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসে নীল বাতি ও সাইরেন লাগিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলায় দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, বাবার মরদেহ চমেক হাসপাতাল থেকে ফটিকছড়িতে নিতে গিয়ে তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়। অপর ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের পরিচয় শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত