শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৪ এএম, ২০২৬-০৬-১১
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এখন আর কেবল ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। ফলে বিষয়টিকে এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)।
তাদের মতে, এ পরিস্থিতি আমানতকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটিকে ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিষয়টির রাজনীতিকীকরণ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।
সভা শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাশরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে ব্যাংকাররা খুবই উদ্বেগে আছেন।
তিনি জানান, গভর্নর ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতিকে এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।
এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণের প্রবাহ বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ নিয়ে আসছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য নতুন প্যাকেজ থেকে ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে পাঠানো তথ্যে অনেক ভুল থাকে বা বিলম্বে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে আমদানি করা পণ্যের দামের ক্ষেত্রে অনেক তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ
ইসলামী ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশ্রাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।
অর্থমন্ত্রী বরাবর সচেতন গ্রাহক ফোরামের স্মারকলিপি, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য এবং জোন পরিচালক অধ্যাপক নুর উন-নবী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করব, আমাদের দাবিগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি দাবিগুলো মানা না হয়, তাহলে সারা দেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
গতকাল (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকদের যে ছয় দফা দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো সম্মিলিতভাবে স্মারক আকারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের দাবি ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে এবং যারা ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করেছে তাদের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকের মালিকানা স্থায়ীভাবে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা লুটপাট করেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার পথে পল্টন মোড়ে মিছিলটি থামিয়ে দেয় পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত