শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৩৭ এএম, ২০২৬-০৬-০৮
সুন্দরবনের শিবসা নদী পেরিয়ে শিংয়েরনালা এলাকায় ভারতগামী ৫টি ট্রলারের বহরে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজে বনদস্যুরা উঠে গুলি চালিয়ে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা ও শিবসা নদীপথ দিয়ে নৌযানগুলো ভারতে যায়। সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলো হলো এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি আব্দুল হাকিম-১।
বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহাজগুলো খালি ছিল। এগুলো ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ফ্লাইঅ্যাশ আনতে যাচ্ছিল। গতকাল বেলা ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা দিয়ে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতেরা হানা দেয়।
মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিবসা নদী পেরিয়ে শিংয়েরনালা খালের ভেতরে ঢোকার পর ডাকাত দল ধাওয়া করে। সামনে থাকা ৪টি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে থাকা এমভি আব্দুল হাকিম-১-এ ডাকাতেরা উঠে পড়ে। জাহাজে উঠেই তারা স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫টি গুলি করে।'
এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবীর বরাতে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ট্রলারযোগে আসা ১০ থেকে ১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরা ডাকাত জাহাজের বাঁ পাশ দিয়ে ওপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে। বিষয়টি টের পেয়ে মাস্টার ব্রিজের সব গেট তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মো. সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ডাকাতেরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫ থেকে ২০টি শটগানের গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট জাহাজে অবস্থান করে। এ সময় স্টাফদের মুঠোফোন, টাকা ও অন্য মালপত্র নিয়ে যায়।
নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আর চলতে চাই না।’
মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের জাহাজ জোয়ার-ভাটার হিসাব করে চলতে হয়। এতে সকাল-সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশ এই পথে আমাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হবে।’
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কোনো অভিযোগ পাননি। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানাও এমন কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত