শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:২৫ পিএম, ২০২৬-০৬-০৬
বাগেরহাটের শরণখোলায় কথিত ভুয়া এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের দাবি, চিকিৎসকের যোগ্যতা ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে এবার মানববন্ধন কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বাগেরহাট জেলা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনকে আয়োজকরা মামলার প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর পোস্টের অভিযোগে করা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা থেকেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তার চিকিৎসা পেশা পরিচালনার বৈধতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসে। ডিবিসি নিউজসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সাংবাদিককে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য, পোস্ট ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় সাংবাদিকতা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয় বলে তিনি জানান। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে রয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার বিষয়ে সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, 'আমি কোনো সাংবাদিকের নামে মামলা করিনি। যারা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন পিবিআিই তদন্তাধীন। আমি চাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।'
তিনি আরও বলেন, 'মানববন্ধনে আমার ও আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপতথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কোনোভাবেই কাম্য নয়'।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের দাবি, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মাহাবুবুর রহমান টুটুল।
তিনি বলেন, ‘কামরুজ্জামান শিমুল একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত। আমরা এ মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত