শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:০৮ পিএম, ২০২৬-০৬-০৬
সাভারের পোশাক প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘আল মুসলিম গ্রুপের’ ছাঁটাই করা শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করছেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেন প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
ঢাকার সাভারের উলাইল এলাকায় একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে শনিবার সকাল ৮টা থেকে কয়েকশত বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী।
এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখতে দেখা গেছে।
ফলে কারখানার সামনের থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে সাভারে কর্মরত কিছু গণমাধ্যম কর্মীদের অফিসে ডেকে নিয়ে ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করার কথা জানায় আল মুসলিম গ্রুপের কর্তৃপক্ষ।
ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার উলাইল এলাকার একেএম নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা থেকে এক হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার কারখানার ৫২৯ জন ও আশুলিয়ায় অবস্থিত আল মুসলিম অ্যাপারেলস কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছে।
‘ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায়’ এসব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে জানিয়ে তাদের ‘সব পাওনা’ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও কোম্পানির তরফে দাবি করা হয়।
তবে শনিবার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের ছাঁটাই করেছে। অনেকেরই ন্যায্য পাওনাদি এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
কারখানার অপারেটর সালমা আক্তার বলেন, “২০১৭ সাল থেকে এই কারখানায় কাজ করছি। মাঝে এক বার চলে গিয়েছিলাম আবার পুনরায় কাজে যোগদান করি। হঠাৎ করেই কোন নোটিশ ছাড়াই আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। বাসা ভাড়া দেওয়া লাগে, সন্তানের লেখাপড়া খরচ, হঠাৎ করে চাকরি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
তিনি বলেন, “আমাদের পাওনাদিও ঠিকমতো বুঝিয়ে দেয়নি। কাউরে ছাঁটাই করলে তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাটাই করতে হয় কিন্তু তারা আমাকে এক মাসের টাকা দিয়েছে।”
সুইং অপারেটর আফানুর বলেন, “১৩ বছর ধরে আল-মুসলিমের এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ আসে ছাঁটাই করা হয়েছে। শনিবার সকালে কর্মস্থলে আসলে কারখানায় ঢুকতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।”
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শ্রমিক মো. রকিবুল্লাহ বলেন, “দুই বছর পাঁচ মাস এই কারখানায় কাজ করছি। কোন নোটিশ ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমাদের ছাটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তিন মাস ১৩ দিনের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কর্তৃপক্ষ শুধু বাৎসরিক বেসিক দিয়েছে।”
কারখানাটি সাত বছর ধরে কাজ করছেন রোজিনা আক্তার। তিনি যে ছাঁটাই হয়েছেন তাও জানতেন না। ঈদের ছুটি শেষে শনিবার সকালে তিনি কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কার্ড পাঞ্চ করতে গেলে তার কার্ডটি রেখে দেয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, “আমাদেরকে ছাঁটাই করা হয়েছে তা জানতেও পারি নি। তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাইয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। অন্যায়ভাবে আমাদেরকে বের করে দিয়েছে।”
আছিয়া আক্তার নামে আরেক শ্রমিক বলেন, “তিন মাস ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করিয়ে লাইনে দিয়েছে। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ”
শ্রমিকদের দাবি তাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
এই বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, “ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে। কারখানা পলিসি মেনেই তাদেরকে ছাঁটাই করা হয়।
“শ্রমিকরা যেসব অভিযোগ করছে তা সঠিক নয়। তবুও কোনো শ্রমিকের যদি টাকা পাওনা থাকে তাহলে তারা যোগাযোগ করলে আমরা যাচাই করে তা পরিশোধ করে দেবো।” খবর বিডি নিউজ ২৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত