শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৩৩ পিএম, ২০২৬-০৬-০৪
আসামি সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার সময় সোহেলের নাম বলেননি। বললেন কখন? ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারাগরে অন্যান্য আসামিদের সাথে মেশার পর তারাই তাকে বুদ্ধি দেয়। এরপর আসামি আদালতে আসলে সে কারাগারে থাকা আসামিদের পরামর্শে ডলারের নাম বলেন বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্ততর্ক শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু একথা বলেন।
দুলু বলেন, গত কয়েকদিনে দেখা যাচ্ছে আদালতে আনা-নেওয়ার পথে আসামি সোহেল রানা আসামি হিসেবে ডলারের নাম বলছেন। আসামি সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সাথে জড়িত ডলার কিংবা অন্য কোন আসামির নাম বলেননি। বললেন কখন? ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারাগারে অন্যান্য আসামিদের সাথে মেশার পর তারাই তাকে বুদ্ধি দেয়। এরপর আসামি আদালতে আসলে সে কারাগারে থাকা আসামিদের পরামর্শে মামলার বিলম্বিত করতে কিংবা মামলা সমন্ধে জনগণের মোটিভ অন্য দিকে ঘোরাতে ডলারের নাম বলছে।
ডলারের নাম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার সময় না বলায় কিংবা পুলিশি তদন্তে না আসায় কিংবা আদালতে দেওয়া ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দিতেও তার নাম না আসায় ডলারের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে প্রসিকিউশনের সুযোগ নাই।
গত ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষিরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, আমিও দোষ করছি ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।
তিনি আরও বলেন, আমার ছওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন।
এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, আমি কিছু করিনি স্যার আমি নির্দোষ।
দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে গতকাল এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এরপর ভিকটিমের- মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত