শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৩৭ পিএম, ২০২৬-০৬-০৪
দেশে ফেরা হাজিদের বিমানবন্দরের ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশু দিন যেসব হাজি হজ থেকে ফিরেছেন, তাদের লাগেজ সংক্রান্ত বিষয়ে একজনে একটা পোস্ট দিয়েছেন। যে লাগেজে সেই লাগেজগুলি কাটা হয়েছে এবং লাগেজে ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। পোস্টটি প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আমরা আমাদের তরফ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এটা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা আপনাদের সামনে হাজির করেছি, যাতে করে বস্তুনিষ্ঠ বিষয়টাই আপনাদের জানাতে পারি। আপনারা জানেন যে, প্রায়ই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। তাতে করে বিভ্রান্তিটা আপনাদের নিরসন হয়। সেই প্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই।’
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬ পিস লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া এবং কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জানা যায়।
নিয়মের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ।’
ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আপনারা যাচাই করলেই জানবেন যে গতকালকের ঘটনাটি অসত্য।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ অভিযোগটি অসত্য প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এবং ভিডিও ফুটেজ জমা দিয়েছে। লাগেজ বিমান থেকে নামানো থেকে শুরু করে বেল্ট পর্যন্ত আসার পুরো ভিডিও চিত্রটি সংরক্ষিত আছে। সেটি দেখলেই বোঝা যাবে যে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। লাগেজ নামানোর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই প্রথম লাগেজ বেল্টে এসেছে এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সব লাগেজ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবার ৭৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী আমরা নির্বিঘ্নে পাঠিয়েছি, কোনো ধরনের ত্রুটি আমাদের দেখা দেয়নি। আমরা সুন্দরভাবে এমনকি এখানে যে আপনার ইমিগ্রেশন, নুশুক কার্ড, খাবার-দাবার এগুলোসহ এমনকি শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে হাজিদের সঙ্গে বিমানে কথা বলে তাদের প্রেরণ করেছিলেন এবং হাজিরা খুব খুশি ছিলেন এবার অন্যান্য বছরের তুলনায়। আমাদের এই গণতান্ত্রিক সরকার আসার পরে এবারই প্রথম হাজীরা খুব সন্তুষ্টির সাথে তারা হজ করতে গিয়েছেন। আসার পথে যদি কোনো ধরনের অসুবিধা হয়, তার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থনাও করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বিমান ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত