শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৬ এএম, ২০২৬-০৬-০৪
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা।
ফোরামের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের বলা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং ব্যবসায়ী। যদিও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কর্মী কোন শাখার গ্রাহক সেটা বলতে পারেননি।
এদিকে ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। যদিও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫০০ লোক, যা ০.০০১৭ শতাংশ।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তারা খুরশীদ আলমকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেবেন না। তিনি ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে সাত দফা দাবি মেনে নিন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমির মো. শাহীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুর ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মো. হাসান, জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালি থানার আমির মতিউর রহমান, ওয়ারী থানার নেতাসহ দলটির অন্য নেতা-কর্মীরা।
এর আগে দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলন ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও সাঁজোয়া যান।
প্রথম দিন গত সোমবারের আন্দোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ওই সভায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, রাজপথের আন্দোলনের ভিত্তিতে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের অনেকগুলোই ভিত্তিহীন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ঋণ নেই। তার স্ত্রীর নামে একটি ঋণ রয়েছে, যা বর্তমানে খেলাপি অবস্থায় আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। সম্প্রতি চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যানারে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। এর ধারাবাহিকতায় টানা কয়েক দিন ধরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সৌজন্যে খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত