শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩৫ এএম, ২০২৬-০৬-০৩
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মহাসড়কটির ময়মনসিংহ অংশের বেশ কিছু মোড়, বাঁকে ও সংযোগস্থলগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
মোড়গুলোতে এলোপাতাড়ি গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরগতিতে চলছে চাকা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ। শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশ তৎপর থাকলেও মোড়গুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মোড়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, পাটগুদাম ব্রিজ মোড় ও বাইপাস মোড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঈদের ছুটি শেষে একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা অভিমুখে রওনা হওয়ায় এসব স্থানে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
যাত্রীরা জানান, ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের বেশির ভাগই ছুটির শেষ দিন থেকে ধাপে ধাপে কর্মস্থলে ফিরছেন। ফলে এক দিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি। এ ছাড়া মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতা থাকায় যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ময়মনসিংহ নগরীর কয়েকটি মোড়ে মোড়ে যানবাহন এলোপাতাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকার গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন হাফেজা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর ওপর দীর্ঘ এক ঘণ্টা যাবৎ যানজটে বাস আটকে আছে। পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে এলোপাতাড়ি গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানোয় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
‘ঢাকাগামী বাসযাত্রী আব্দুল মজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মোড়গুলোতে গাড়ির চাকা ধীরগতিতে চলছে। এতে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছি, ঠিক তেমনি গাড়ির চালক বাড়তি ভাড়া আদায় করায় আরও মনোক্ষুণ্ণ হয়েছি। সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।’
ঢাকাগামী একটি বাসের চালক হাকিমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ-পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ নগরীর প্রবেশ ও বের হওয়ার কয়েকটি পয়েন্টে যানজট দেখা দিয়েছে। তবে মহাসড়কের অধিকাংশ অংশ সচল থাকায় দীর্ঘক্ষণের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন যাত্রীরা। তবে মোড়গুলোতে গাড়ি দীর্ঘক্ষণ থেমে না থাকলে মানুষ আরও স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে পারবে। এ ছাড়া অনেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় করলেও আমি করছি না।’
ময়মনসিংহ মটরমালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, চালকরা তাদের স্বার্থেই মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামায়। তাদের বোঝা দরকার ছিল, এতে যাত্রীদের সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি ভোগান্তি হয়। এ ছাড়া কোনো চালকের বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক গোলাম মাওলা বলেন, ‘ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত