রিকশা-অটোরিকশা নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

Passenger Voice    |    ০৩:৩৫ পিএম, ২০২৬-০৬-০১


রিকশা-অটোরিকশা নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, রাজধানীতে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রিকশা ও অটোরিকশাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। চালকদের পরিচয় ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করতে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট ও লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দল।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলতে পারে না। দীর্ঘ যানজটে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রিকশা, অটোরিকশা কিংবা ভ্যান বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে এসব যানবাহনকে অবশ্যই নিয়ম ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতে হবে।

আবদুস সালাম বলেন, যেভাবে হকারদের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, একইভাবে রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশাকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। যে কেউ বাইরে থেকে এসে ঢাকা শহরে রিকশা চালানো শুরু করলে তা কোনো শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না। যে এলাকার চালক, তাকে সেই এলাকাতেই পরিবহন পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, রিকশা ও অটোরিকশাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে যানজট কমবে এবং চালকদের পরিচয় ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনও তাদের কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, এসব যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রেকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে চালকদের মতামতও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত মানবিক। তার নির্দেশনা হলো, রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ইলেকট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থা রিকশা ও অটোরিকশার ক্ষেত্রেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে চালক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও যানজটে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম সমস্যাগ্রস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই সবাইকে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়া বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।