শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৫৬ পিএম, ২০২৬-০৫-২১
বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল উপজেলায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে ৪৫ বছর ধরে বসছে ভাগা, গুনাই ও দিগরাজ বাজার। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে বাজার বসায় যেকোনো মূহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকি মাথায় নিয়েই বাজারে কেনাবেচা করতে ভিড় করেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের পাশ থেকে নিরাপদ স্থানে বাজার স্থানান্তর করতে হবে।
২০০৮ সালে ভাগা বাজারের রাস্তার পাশে লোকজনের ভিড়ে ট্রাক উঠে পড়ে। এতে চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
জানা গেছে, মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ বাজার এবং রামপাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাগা ও গুনাই বাজার ১৯৮১ সাল থেকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে বসছে। ভাগা বাজার সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার, গুনাই বাজার সোমবার ও শুক্রবার এবং দিগরাজ বাজার রোববার ও বৃহস্পতিবার বসে। মহাসড়কের দুই পাশেই বাজার বসে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অন্য কোনো বাজার না থাকায় আশপাশের চার-পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোক সপ্তাহের বাজার করতে এই বাজারগুলোয় আসেন।
সম্প্রতি ভাগা বাজার ও দিগরাজ বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশেই বাজার বসেছে। কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংস সবই বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা রাস্তা পারাপার হয়ে দুই পারে গিয়েই সদাই কিনছেন। অনেকে সচেতনভাবে রাস্তা পার হলেও বেশির ভাগ লোকজন রাস্তা পার হচ্ছেন বেখেয়ালে। বাজারের কাছে এসে সব ধরনের যানবাহনই গতি মন্থর করতে বাধ্য হচ্ছে। কোনো কোনো সময় গাড়ি একদম বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।
কাটাখালী গ্রাম থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী রাকিবুল, তাহের, লিয়াকতসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, মোংলা বন্দর গতিশীল হওয়ায় খুলনা-মোংলা মহাসড়ক এখন ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিনই মোংলা বন্দর ও মোংলা ইপিজেডের পণ্যবোঝাই অসংখ্য ট্রাক, লরি, বাস এ পথে যাতায়াত করে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে বাজার হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ঝুঁকির মুখে থাকেন। না জানি কখন গাড়ি তাঁদের গায়ের ওপর উঠে পড়ে। মহাসড়কের পাশ থেকে নিরাপদ স্থানে বাজার কেন স্থানান্তর করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, কর্তৃপক্ষই তা ভালো বলতে পারবে।
ভাগা বাজারে বাজার করতে আসা ভাগা গ্রামের স্কুলশিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন এবং দিগরাজ বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, সপ্তাহের বাজার করতে এলাকাবাসীকে এখানে আসতেই হয়। এ রকম ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে বাজার মানেই তো দুর্ঘটনার ঝুঁকি। শুধু ঝুঁকিই না, ছোট-বড় দুর্ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। ২০০৮ সালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে বাজার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু তা এত বছরেও শুধু কথাই রয়ে গেছে।ফলাফল আসেনি।
খুলনা-মোংলা বাস সার্ভিসের চালক সেলিম শেখ ও ট্রাকচালক সোহাগ শেখ বলেন, দুই পাশের বাজারের দোকানগুলো প্রায়ই রাস্তার ওপরে উঠে আসে। চলতি বছরের ১২ মার্চ দিগরাজ বাজারের কাছেই বেলাই ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে একই পরিবারের ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপাল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার মহাসড়কের পাশে বাজার বসার ঝুঁকি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে বহুবার বাজার স্থানান্তরের কথা জানিয়েছি। বর্তমান বাজার যেখানে বসছে তার পাশেই সরকারি খাস জায়গা রয়েছে। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে স্বল্পতম সময়ে সেখানে বাজার স্থানান্তর করা সম্ভব।
মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উদয় শঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। দিগরাজ বাজার স্থানান্তরের জন্য আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি জায়গার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। তবে এই স্থান থেকে বাজার স্থানান্তরও খুবই জরুরি।’
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত