শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৩৪ এএম, ২০২৬-০৫-১৯
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তর্কে জড়ালেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনের ‘কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়’ এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর সঙ্গে এই তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্মুদা হাবীবা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই বাহাসের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই সংসদ সদস্যকে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায়।
সংলাপে একজন বক্তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১২-এর অন্তর্ভুক্ত রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তা ছাড়া সরকারের এক মন্ত্রীই বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু হলে সেটা চাঁদাবাজি হয় না। এটাতে চাঁদাবাজরা উৎসাহিত হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এ সদস্য বলেন, ‘যে সরকার পালিয়ে গেছে, আগে সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন বর্তমানেও চাঁদাবাজি চলছে, সেটা বন্ধ করা নিয়ে আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। আগে আগের সরকারের লোকরা করত, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।’
এ সময় সংলাপের আরেক বক্তা বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্মুদা হাবীবা জামায়াত এমপির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একজন এমপি বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অথচ কারা করছেন, তিনি জানেন না। একজন মন্ত্রী কোন অনুষ্ঠানে কোন প্রসঙ্গে কী বলেছেন, সেটার খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এমন চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না।
এ সময় জামায়াতের এমপি সাইফুল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি। এখানে আগেও সরকারি দলের লোকরা চাঁদাবাজি করত, এখনও সরকারি দলের লোকরাই করছে।’
জবাবে বিএনপির এমপি মাহ্মুদা বলেন, চাঁদাবাজি হলে মামলা করেন, তদবির নয়। জবাবে সাইফুল বলেন, পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না।
দুই এমপির এমন তর্ক চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজ এখানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপির মধ্যে যে বিতর্কটা দেখা গেল, সেটাও কিন্তু এক ধরনের নতুন ঘটনা ও পরিবর্তন।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত