শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৬ এএম, ২০২৬-০৫-১৯
যাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গত তিন বছরে ব্যক্তিগত, আবাসন ও গাড়ি কিনতে ঋণ করেছেন, তাঁদের সবারই সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এসব ঋণে কারও কারও সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ। তাঁদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া।
ব্যাংকটি তাদের ভোক্তা ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠন করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ, এসব ঋণখেলাপির হার কম। এ ছাড়া জামানত থাকায় এসব ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ। এ জন্য ব্যাংকটি তুলনামুলক কম সুদে এই ঋণে ঝুঁকছে।
ব্যাংকটি ঘোষণা দিয়েছে, অন্য ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ঋণ ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার বা কিনে নেবে ব্যাংকটি। এসব ক্ষেত্রে নতুন ঋণে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
এর ফলে এখন যাঁদের ৯ শতাংশের বেশি সুদে অন্য ব্যাংকে ঋণ রয়েছে, তাঁরা ৯ শতাংশ সুদে তাঁদের ঋণ ব্যাংক এশিয়ায় নিতে পারবে। ব্যাংকটির যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করলে দ্রুত সময়ে এই ঋণ স্থানান্তর করা যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সুবিধা কার্যকর হলে গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি কমে আসবে।
জানা যায়, ব্যাংকটি সামনে আরও বড় আকারে এই সেবায় ঝুঁকবে। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ৭২ লাখ। এসব গ্রাহকের সরকারের স্বল্প সুদে আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংকটি।
জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, ‘অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ আমরা ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার শুরু করেছি। এর ফলে যাঁদের ঋণে এর চেয়ে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, তাঁদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমে আসবে। সামনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের জন্য আমরা এই সেবা চালু করব। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা সরকারের স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন। নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ সহায়তা করবে।’
ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৩৩ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।
সেই হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ঋণ আদায়ে জোর দেয়, ফলে ঋণ খুব বেশি বাড়েনি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা করেছিল ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা বেড়ে হয় ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকা।
এদিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ থাকলেও ২০২৪ সাল শেষে বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ১৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত