শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫৩ পিএম, ২০২৬-০৫-১৮
ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প না ভেঙে দ্রুত চালু করে গণপরিবহননির্ভর নগর উন্নয়নের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি বলছে, অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ হলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও প্রকল্প চালু না হওয়া দেশের নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘গণপরিবহন নির্ভর নগর : ঢাকা-গাজীপুর বিআরটির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান।
তিনি বলেন, বিআরটি শুধু একটি বাসসেবা নয়, বরং নগর পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর মাধ্যম। আধুনিক বিআরটি ব্যবস্থা দ্রুত বর্ধনশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের কুরিচিবা শহরে যাত্রা শুরুর পর বর্তমানে বিশ্বের ১৯১টি শহরে বিআরটি চালু রয়েছে।
বিআরটির মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে বাসের জন্য আলাদা লেন, প্রিপেইড বোর্ডিং, প্ল্যাটফর্ম সমতলে যাত্রী ওঠানামা, উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বাস এবং সমন্বিত ভূমি ব্যবহার ও পরিবহন ব্যবস্থা। সংগঠনটির দাবি, মেট্রোরেলের তুলনায় নির্মাণ ব্যয় প্রায় এক-দশমাংশ হলেও বিআরটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম বলেও জানান তিনি।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৫ সালে প্রণীত ঢাকার স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে গাজীপুর-ঢাকা-কেরানীগঞ্জ রুটে বিআরটি নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। ২০১২ সালে শুরু হওয়া ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো চালু হয়নি। অথচ প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের মাত্র ৩ শতাংশ বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়েই ‘বেসিক বিআরটি’ চালু করা সম্ভব। উন্নতমানের বাস কিনতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনশ কোটি টাকা এবং ইলেকট্রিক বাস চালু করতে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে প্রকল্প বাতিল করতে গেলে স্টেশন, র্যাম্প ও এস্কেলেটর অপসারণ এবং ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০ থেকে ১২০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সংগঠনটি দাবি করে, বিআরটি চালু হলে যাত্রাসময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে, জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নারী ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে গাজীপুরে রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণেও এটি ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, জরুরি লেন না থাকা এবং দুর্বল বাস্তবায়ন কাঠামো প্রকল্পটির বড় দুর্বলতা। তাদের অভিযোগ, বিআরটি প্রকল্পকে পরিবহনসেবা হিসেবে না দেখে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে পরিণত করা হয়েছে। বিআরটি কোম্পানিকেও শুরু থেকেই দুর্বল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। দাবিগুলো হচ্ছে— আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ডেডিকেটেড লেনসহ ন্যূনতম (বেসিক) বিআরটি চালু করতে হবে; আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে বিআরটি বোর্ড পুনর্গঠন করতে হবে; ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে এখনই ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে; গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বিআরটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে; ঢাকা-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ নগর অঞ্চলের জন্য সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে একাধিক বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) প্রণীত ন্যাশনাল স্পেশাল প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্ক (এসপিএফ)-এর আলোকে দেশের বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিআরটি চালু করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, সাবেক সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি শামসুল হক প্রমুখ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত