শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৪৫ এএম, ২০২৬-০৫-১৩
ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে চাপ কমানো ও সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য সহজলভ্য করার লক্ষ্যে গত সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি।
প্রথম দিনে খুলনা নগরীর ১৫টি পয়েন্টে টিসিবি কার্ডধারী পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ট্রাকের মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করা হয়। ২১ মে পর্যন্ত টানা ১০ দিন এই কার্যক্রম চলবে।
জানা যায়, প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক গড়ে ৪০০ জনের কাছে পণ্য বিক্রি করা হবে। এতে প্রতিদিন নগরীতে ১৫টি ট্রাক থেকে ৬ হাজার পরিবার সরাসরি নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।
টিসিবি কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্যাকেজে ভোজ্যতেল ২ লিটার (প্রতি লিটার ১৩০ টাকা), চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা ও মসুর ডাল ২ কেজি (প্রতি কেজি ৭০ টাকা) বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে খোলা বাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হলেও বাজারে এর প্রভাব নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী নগরীতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। ৩১টি ওয়ার্ডে বসবাসরত পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৬১টি। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।
ফলে চাহিদার সামান্য অংশকে টিসিবির পণ্যের আওতায় আনলেও বড় একটি অংশ এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। গত দুই দিনে খুলনার বাজারগুলোতে আগের দামেই ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সোনাডাঙ্গা খুচরা বাজারে ক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, সরকার ভর্তুকি মূল্যে যে পণ্য বিক্রি করছে তা পর্যাপ্ত নয়। নিত্যপণ্যের পরিমাণ ও সেই সঙ্গে ট্রাক সেলের পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে হবে। টিসিবি পণ্য বিক্রি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ টিসিবির পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করা হলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘নগরীতে বসবাসরত প্রায় ৬ লাখ পরিবারের মধ্যে প্রতিদিন ৬ হাজার পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে তেল, ডাল, চিনি দেওয়া হচ্ছে। ১০ দিনে ৬০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে। এর বাইরে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ফলে খোলাবাজারে সীমিত পণ্য বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বড় পরিসরে আরও অনেক পরিবারকে দীর্ঘ মেয়াদে এই সুবিধায় আনতে পারলে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে।’
টিসিবির খুলনা অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী একই সময়ে কার্ডধারী ও সাধারণ মানুষ–উভয় শ্রেণির জন্যই এই সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষরা নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। প্রতিদিন ৬ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে। ফলে দ্রুতই বাজারে এর প্রভাব পড়বে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত