দিনাজপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ট্রাক শ্রমিকদের অবরোধ

Passenger Voice    |    ০৪:৪২ পিএম, ২০২৬-০৫-১০


দিনাজপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ট্রাক শ্রমিকদের অবরোধ

মহাসড়কে অবৈধ টোল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দিনাজপুরে ট্রাক শ্রমিক ও মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা সড়ক অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে জেলার  প্রধান সড়ক।

পরে প্রশাসনের আশ্বাস ও আলোচনার পর বেলা ১১টার দিকে অবরোধ স্থগিত করলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় পৌর প্রশাসন ও শ্রমিক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় পৌর এলাকার ভেতরে চলমান টোল আদায় বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

রবিবার (১০ মে) সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কসহ জেলার অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শুরু হওয়া অবরোধ দ্রুত ফুলহাট, দশমাইল মহাসড়ক, বালুয়াডাঙ্গা-বিরল সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

শ্রমিক নেতা মঈনুল ইসলাম বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধভাবে টোল ও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি তাই আমরা সড়কে নেমেছি।

দিনাজপুর শহরে প্রবেশ করলেই ট্রাক চালকদের থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। টাকা না দেওয়া হলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের অবগত করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

দিনাজপুর ট্রাক শ্রমিক মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বাবি বলেন, টোল আদায় আপাতত বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা অবরোধ স্থগিত করেছি। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে।

দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, টোল আদায়ের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, খাস কালেকশনের জন্য। যেহেতু এ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেহেতু শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। অবৈধভাবে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।

অবরোধের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুর থেকে ধীরে ধীরে জেলার সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।