বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল

Passenger Voice    |    ০৫:২২ পিএম, ২০২৬-০৫-০৮


বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল

টাঙ্গাইলের বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সেতুটি উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটলের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফাটলের মাত্রাও। আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

বাসাইল উপজেলা (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে বাছেদ প্রকৌশলী নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ সেতুর নির্মাণ কাজ বিগত ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল। পরে সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয় নাই। রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না। হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে, যার কারণেই ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে ভালো মতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল, তাহলে এমনটা হতো না।

ননী গোপাল সরকার নামে একজন বলেন, রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে। আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টি হয় তাহলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলই করা যাবে না, রাস্তা ধসে যাবে। যদি ভালোভাবে কাজ করতো তাহলে এমনটা হতো না।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলীর ম্যানেজার নুর নবী বলেন, আমাদের রাস্তার পাশে ব্লক রাখা ছিল। ব্রিজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে যেতে পারিনি। বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি। ব্রিজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়, নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে। ব্রিজের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বোঝাই গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, ফাটলের জায়গাটি মেরামত করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। ব্রিজের সংযোগ সড়কে কিছু অংশ ব্লক বসানো হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে। যার জন্য ব্রিজের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা গেছে। এই ব্রিজের কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ভাঙা জায়গা ঠিক করে দেবে। ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজের টাকা এখনও প্রদান করা হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে সেখানে তারা মেরামত করে দেবে।